আজ শুভ জন্মাষ্টমী

রুমন ভট্টাচার্য

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি শুভ জন্মাষ্টমী আজ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় উৎসব এটি। বিষ্ণুর অবতার কৃষ্ণের জন্মদিন হিসেবে এই উৎসব উদযাপন করা হয়। এর অন্য নাম কৃষ্টাষ্টমী, গোকুলাষ্টমী, অষ্টমী রোহিনী, শ্রীকৃষ্ণজয়ন্তী ইত্যাদি। আজকের দিনটি অত্যন্ত শুভ। এদিনে ব্রত পালন করলে ব্রতীর সকল সদ্বিচ্ছা পূরণ হয় এবং সকল দুঃখ-কষ্ট ও পাপ থেকে মুক্তি পান বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। জন্মাষ্টমী তিথি আজ সন্ধ্যা ৬টা ২৭মিনিট থেকে শুরু হয়ে আগামীকাল বিকাল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। রাতে অনুষ্ঠিত হবে পূজা। ব্রতীরা পারণা করবেন আগামীকাল মঙ্গলবার ৪টা ১৫ মিনিট পরে।
সংস্কৃত ‘কৃষ্ণ’ শব্দটির অর্থ কালো, ঘন বা ঘন-নীল। কৃষ্ণের গায়ের রঙ শ্যামল, অন্য অর্থে ধূসর, পীত, কিংবা কালো। তাঁর রেশমী ধুতিটি হলুদ রঙের এবং মাথার মুকুটে একটি ময়ুরপুচ্ছ শোভা পায়। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব জগৎকল্যাণে উদ্ভাসিত।
হিন্দু শাস্ত্রমতে, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি রোহিনীনক্ষত্র নিশিতে সবদিক আলোকিত করে শ্রীকৃষ্ণের মানবরূপে মর্ত্যে আবির্ভাব ঘটে। কংস কারাগারে দেবকীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন শ্রীকৃষ্ণ। সেদিনের রাত ছিল খুবই ভয়ঙ্কর। ঝড়-বৃষ্টি বজ্রঘাতে সবাই কাতর ছিল। তখন অলৌকিকভাবেই সবকিছু ঘটতে থাকে। জন্মমাত্র বাসুদেব গোপনে কৃষ্ণকে অনেক দূরে বৃন্দাবনে জনৈক নন্দরাজার ঘরে রেখে তার মেয়েকে নিয়ে আসেন। সেখানেই দৈব ইচ্ছায় পদ্মার গর্ভে জন্ম নেন রাধা।
শ্রীকৃষ্ণ নিজেই শ্রীমদ্ভগবদগীতায় বলেছেন, যখনই ধর্মের গ্লানি হয় এবং অধর্মের উত্থান ঘটে, তখনই ধর্ম সংস’াপনের জন্য অসীম ভগবান জীবদেহের সীমাধারণ করে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন দুষ্কৃতিকারীদের বিনাশ করতে। হিন্দু ধর্মমতে, ঈশ্বর যখন জীবজগতের প্রতি কৃপা বর্ষণ করেন, তখন তাঁকে ভগবান বলা হয়। আবার ঈশ্বর যখন কোনো রূপ ধারণ করে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন, তখন তাঁকে অবতার বলা হয়।
শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার জানান, ৩৫ বছর ধরে চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমী মহোৎসব উদযাপিত হচ্ছে। এবারো জে এম সেন হলে চার দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার আয়োজন রয়েছে। আজকের মহাশোভাযাত্রায় ৪০ জেলার শাখা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠন অংশগ্রহণ করবে। সবমিলে লাখো ভক্তের সমাগম ঘটবে মহাশোভাযাত্রায়। মহাশোভাযাত্রা ও পরবর্তী অনুষ্ঠানসমূহ উদযাপনে প্রশাসনের কাছ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছি। আশাকরি সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে জন্মাষ্টমী উৎসব উদযাপিত হবে।
শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ও উৎসব উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব রত্নাকর দাশ টুনু জানান, ‘আজ সকাল ১০টায় জে এম সেন হলের সামনে থেকে বের হবে বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রা। দুপুর ১২টায় মাতৃসম্মেলন উদ্বোধন করবেন রামকৃষ্ণ মিশন চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক শ্রীমৎ শক্তিনাথানন্দজী মহারাজ। বিকাল ৩টায় টিভি ও বেতার শিল্পীদের অংশগ্রহণে ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকাল ৫টায় সনাতন ধর্মমহাসম্মেলন, মহাসম্মেলনে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলন করবেন বাঁশখালী ঋষিধাম ও তুলসী ধামের মোহন্ত শ্রীমৎ স্বামী সুদর্শনানন্দ পুরী মহারাজ। শুভ উদ্বোধক কৈবল্যধামের মোহন্ত শ্রীমৎ অশোক কুমার চট্টোপাধ্যায়। মহান আশীর্বাদক ঢাকা দক্ষিণ সিলেটের মহাপ্রভু অঙ্গণের অধ্যক্ষ শ্রীল রাধাবিনোদ মিশ্র মহারাজ। এছাড়া ১৫ আগস্ট সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে। প্রতিদিন দুপুর সাড়ে ১২টা ও রাত ৮টায় মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে।’
অনুষ্ঠানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের উপসি’তি, সার্বিক সহযোগিতা, ভক্তদের মহানাম শ্রবণ ও মহাপ্রসাদ আস্বাদনের অনুরোধ জানিয়েছেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি দেবাশিষ পালিত এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার।