মহাসপ্তমী সম্পন্ন

আজ মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার মহাসপ্তমী বিহিত পূজা গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। সকালে দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, স’াপন ও মহাসপ্তমীর স্নান পূজাসহ সকল পূজা নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন হয়। পূজা শেষে ভক্তরা দেবীর শ্রীচরণে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন। দুপুরে কোনো কোনো পূজামণ্ডপে ব্যবস’া করা হয় মহাপ্রসাদের। এতে প্রচুর ভক্তের সমাগম লক্ষ্য করা গেছে।
চকবাজার নরসিংহ মন্দিরে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা মন্দিরে ভিড় জমাতে থাকে। পূজা শেষে কয়েকধাপে দেওয়া হয় পুষ্পাঞ্জলি। দুপুরে ভক্তদের মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।
পূজা কমিটির সভাপতি উজ্জ্বল ভট্টাচার্য ও সাধারণ সম্পাদক রুমন ভট্টাচার্য বলেন, প্রতিবছরই আমরা পূজার সপ্তমী অথবা নবমীর দিন ভক্তদের জন্য মহাপ্রসাদের আয়োজন করে থাকি। নবমীর পূজার দিন আশ্বিনী কুমার ব্রত হওয়ার কারণে এবার সপ্তমীর দিন মহাপ্রসাদের আয়োজন করেছি।
মুরাদপুর থেকে নরসিংহ মন্দিরে অঞ্জলি ও মহাপ্রসাদ আস্বাদন করতে আসা দম্পতি রূপম দাশ ও অর্চনা দাশকে জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, প্রতিবছরই মায়ের শ্রীচরণে অঞ্জলি দিই। অঞ্জলি শেষে মহাপ্রসাদ আস্বাদন করি। প্রার্থনা করি নিজেদের, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ দেশ ও দশের মঙ্গল কামনায়।
গতকাল সন্ধ্যায় পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্ত-অনুরাগীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকেই মণ্ডপগুলোতে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খের ধ্বনি, কাঁসর ঘণ্টা, উলুধ্বনি ও চণ্ডীপাঠে মুখরিত ছিল। সন্ধ্যায় মণ্ডপগুলো ঝলমলে আলোকসজ্জায় রঙিন হয়ে ওঠে। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজতে থাকে মণ্ডপগুলোতে। মণ্ডপের চারপাশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রয়েছে বাড়তি নজরদারি।
টেরীবাজার রঘুনাথ বাড়িতে সন্ধ্যায় প্রতিমা দর্শনে আসা নবদম্পতি জুয়েল নন্দী ও চৈতী নন্দী জানান, অন্যান্য দিনের চেয়ে মহাসপ্তমীতে ভিড় একটু কম হয়। তাই একটু আগেই বের হয়ে উল্লেখযোগ্য প্রতিমা মণ্ডপগুলো দেখে ফেলার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি প্রার্থনা করছি নিজেদের দাম্পত্যজীবন যাতে সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে উঠে।
আজ বুধবার অনুষ্ঠিত হবে মহাষ্টমী। মহাষ্টমী পূজার পাশাপাশি দু’একটি পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা। এ উপলক্ষে পূজা মণ্ডপগুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন আয়োজকরা। অষ্টমী বেলা ১২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত। কালবেলানুরোধে দিবা ৯টার মধ্যে দুর্গাদেবীর মহাষ্টম্যাদি কল্পারম্ভ, কেবল মহাষ্টমী ও মহাষ্টমী বিহিত পূজা সমাপন। বেলা ১২টা ৩২ মিনিট গতে সন্ধিপূজা আরম্ভ, ১২টা ৫৬ মিনিটের মধ্যে বলিদান ও বেলা ১টা ২০ মিনিটের মধ্যে সন্ধিপূজা সমাপন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে মহাষ্টমীর ব্রতের পারণা।
এদিকে প্রতি বছরের মত এবারো মহাঅষ্টমীতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। কুমারী পূজা মাতৃরূপে ঈশ্বরেরই একটি আরাধনা। সেজন্য পুজার্থীরা মাতৃরূপে ঈশ্বরকে আরাধনা করতে কুমারী পূজা করে থাকে। প্রতি বছর পাথরঘাটা হরচন্দ্র মুন্সেফ লেইনে শ্রী শ্রী শান্তনেশ্বরী মাতৃ মন্দিরে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। হিন্দু শাস্ত্রানুসারে মহাঅষ্টমীর দিন মানবকল্যাণের জন্য ১ থেকে ১৬ বছরের কুমারীকন্যাকে মনোনীত করা হয়। বয়সভেদে কুমারীর নাম হয় ভিন্ন। শাস্ত্রমতে, এক বছর বয়সে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কালিকা, পাঁচে সুভগা, ছয়ে উমা, সাতে মালিনী, আটে কুব্জিকা, নয়ে অপরাজিতা, দশে কালসন্ধর্ভা, এগারোয় রুদ্রাণী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চৌদ্দয় পীঠনায়িকা, পনেরোয় ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোল বছরে অম্বিকা বলা হয়ে থাকে।
শ্রীশ্রী শান্তনেশ্বরী মন্দিরের সেবায়েত শ্যামল সাধু জানান, প্রতিবছরের মত এবারও আমরা কুমারী পূজার আয়োজন করেছি। ইতোমধ্যেই কুমারী পূজা উপলক্ষে আমাদের সকল প্রস’তি সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল সকাল ১২টায় মন্দির প্রাঙ্গণে কুমারী পূজা যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হবে।