আজ পবিত্র আশুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ শুক্রবার ১০ মহররম পবিত্র আশুরা। আরবি ৬১ হিজরি সালের এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (দ.) এর প্রাণপ্রিয় নাতি হজরত ইমাম হুসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ইয়াজিদের সেনাদের হাতে কারবালার ময়দানে নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন। এ ঘটনার স্মরণে মুসলিম উম্মাহ দিনটি যথাযথ মর্যাদায় ইবাদত-বন্দেগি ও রোজা পালনের মাধ্যমে অতিবাহিত করেন।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মুসলমানরা ত্যাগ ও শোকের দিন হিসেবে দিবসটি পালন করেন। দিনটি মুসলমানদের কাছে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার দিন। বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয় আশুরা। দিনটি উপলক্ষে সরকারি ছুটি পালিত হচ্ছে ।
আশুরা কেবল কারবালার শোকাবহ স্মৃতিতেই ভাস্বর নয়। ইতিহাসের আরো অনেক ঘটনার সাক্ষ্য বহন করছে। মহান আল্লাহ তায়ালা এ দিনেই আরশ, কুরছি, লওহ, কলম, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং এ দিনেই হযরত আদমকে (আ.) সৃষ্টি করে তাঁকে বেহেশতে স’ান দিয়েছেন। পরবর্তীতে শয়তানের প্ররোচনায় ভুলের কারণে এ দিনেই তাঁকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। হযরত নূহ (আ.) সাড়ে নয়শত বছর ধরে তাওহীদের বাণী প্রচারের পর যখন সে যুগের মানুষ আল্লাহর বিধি-নিষেধ পালনে অস্বীকৃতি জানায়, তখন নেমে আসে আল্লাহর গজব। ফলে হযরত নূহ (আ.) এর সমপ্রদায় ধ্বংস হয়েছে। শুধু রক্ষা পেয়েছেন তাওহীদে বিশ্বাসী নূহ (আ.) এর অনুসারীরা। পবিত্র আশুরার দিনে মহাপ্লাবনের সময় হযরত নূহ (আ.) এর নৌকা তার অনুসারীদের নিয়ে জুদি পাহাড়ের পাদদেশে এসে থেমেছিল। আজো তার কিছু নিদর্শন সেখানে পাওয়া যায়। পবিত্র আশুরার দিনেই হযরত ইব্রাহীম (আ.) জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে উদ্ধার লাভ করেন। তিনি প্রাণাধিক প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইলকে (আ.) আল্লাহর নামে কোরবানি দিতে উদ্যত হলে খলিলুল্লাহ বা আল্লাহর বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছিলেন পবিত্র আশুরার দিনে।
এদিনেই হযরত আইউব (আ.) কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। এদিনে হযরত ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং কাফেরদের ষড়যন্ত্রের শিকার হলে আল্লাহ তাকে চতুর্থ আসমানে উঠিয়ে নেন। এদিনেই হযরত দাউদ (আ.) আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা লাভ করেছিলেন, হযরত সোলায়মান (আ.) তাঁর হারানো রাজত্ব পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছিলেন। হযরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তি লাভ করেছিলেন, হযরত ইয়াকুব (আ.) তাঁর হারানো পুত্র হযরত ইউসূফকে (আ.) চল্লিশ বছর পর ফিরে পেয়েছিলেন। পবিত্র আশুরার দিনে ফেরাউনের স্ত্রী বিবি আছিয়া শিশু মুসাকে গ্রহণ করেছিলেন। আবার স্বীয় কওমের লোকজনসহ হযরত মুসা (আ.) নীল নদ অতিক্রম করে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি লাভ করেন। পক্ষান্তরে ফেরাউন সদলবলে নীল নদে ডুবে মারা যায়। পবিত্র আশুরা সমগ্র জগৎ সৃষ্টির দিন হিসেবে যেমন স্বীকৃত, তেমনি এদিন কেয়ামত সংঘটিত হয়ে পৃথিবী ধ্বংস হবে।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।
দিবসটিকে ঘিরে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে। আজ সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান এবং সংবাদপত্র অফিসসমূহ ছুটি থাকবে। মসজিদ, মাদরাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তা গ্রহণ করেছে। শোক পালনের নামে কোনো অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ির মাতম যাতে কেউ না করে, সে জন্য সিএমপির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ।