আজ নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব

সম্পাদকীয়

শুভ বাংলা নববর্ষ। নব আনন্দে জাগো আজি, নব রবি কিরণে, শুভ্র সুন্দর প্রীতি উজ্জ্বল নির্মল জীবনে-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই আহ্বান পূর্ণতা লাভের আরেকটি পর্যায়ে উপসি’ত যেন আজ। আর নতুন বছরকে উৎসবের রূপ দিতে শুরম্ন হয়েছে উৎসব বোনাস দেওয়ার রেওয়াজও। রাজধানী থেকে দেশের প্রত্যনত্ম অঞ্চল জেগে উঠেছে নববর্ষের আনন্দে।
বছর পরিক্রমায় আবার এলো বৈশাখ। পহেলা বৈশাখ, বাঙালির প্রাণের উৎসব। অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন উৎসব। বিগত বছরের সমসত্ম গস্নানি, জরা, ব্যর্থতা আর হতাশা ভুলে নতুন একটি শানিত্ম ও সমৃদ্ধির বছরকে বরণ করে নেবে বাঙালি।
বাঙালির এই প্রধান উৎসবকে কেন্দ্র করে সারা দেশে আনন্দে মেতেছে মানুষ। বরণ করে নেওয়ার সমসত্ম প্রসত্মুতিও শেষ করে এনেছে। ভোরে নতুন একটি সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শুরম্ন হবে নানা স’ানে, নানা মাত্রায় বর্ণিল ও বর্ণাঢ্য বর্ষবরণের উৎসব।
সমাজের নানা ড়্গেত্রে এ দিবসের একটি প্রভাব ইতিমধ্যে উলেস্নখযোগ্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে এই উৎসব দেশের অর্থনীতির চলমানতাকে অনেকটা সমৃদ্ধ করে তুলেছে। এই উৎসবে দেশের প্রায় সব সত্মরের মানুষ দেশীয় পণ্যের প্রতি বেশি আগ্রহী হওয়ায় তা গ্রামীণ অর্থনীতি থেকে একেবারে শহুরে অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করে।
নববর্ষ উপলড়্গে আমাদের দেশীয় বুটিক হাউসগুলো নিজেদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করে। এছাড়া বিভিন্ন গ্রামীণ পণ্যে বিপণি কেন্দ্রগুলো ক্রেতাদের আগ্রহী করে তোলে। ফলে ঈদ ও পূজার পরে নববর্ষের কেনাকাটা এখন দিন দিন প্রসার লাভ করছে।
শুধু পোশাকে নয়, নববর্ষের দিন বিভিন্ন দেশীয় খাবারের আয়োজন করে থাকে নামীদামি হোটেল – রেসেত্মারাঁগুলোও। এতে ক্রেতাদের আগ্রহও কম নয়। সবকিছু মিলিয়ে পহেলা বৈশাখের এই উৎসব ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সকল বাঙালির প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। এই উৎসব বাঙালির জাতিসত্তার উৎসব।
একটি অসাম্প্রদায়িক উৎসব। জাতি হিসেবে আমরা যে বাঙালি, সম্প্রদায়গত দিক থেকে যে যে ধর্মেরই হোক না কেন, এই চেতনা সমুন্নত করে পহেলা বৈশাখের এই উৎসব।
এই উৎসবেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশ গ্রহণ করে। সামাজিক, অর্থনৈতিক প্রায় প্রতিটি ড়্গেত্রে দেশ আজ অনেক অগ্রসর হয়েছে। একথা মানতে হবে। তবে চেতনা ও মানবিকতার দিক থেকে সমাজ যে দিনদিন পিছিয়ে পড়ছে তা অনেককে ভাবিয়ে তুলছে ইদানিং। সমাজে কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা, কূপম-কূপকতা, সাম্প্রদায়িকতা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য পহেলা বৈশাখের চেতনায় সমাজে শুভবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। মানবতার শিড়্গা বাড়াতে হবে। বাড়াতে হবে সহনশীলতার চর্চাও।
বৈশ্বিক ও দেশীয় বিভিন্ন কারণে দেশে আজ জঙ্গিবাদের মতো চরমবাদীদের উত্থান ঘটেছে। এসব কিছু মোকাবিলা করে শানিত্ম ও সমৃদ্ধির জন্য আমাদের বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় সমাজ ও রাষ্ট্রকে গড়তে হবে।
সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।