আজ জিতলে ফাইনালে টাইগাররা মুখোমুখি বাংলাদেশ-পাকিস্তান

সুপ্রভাত ডেস্ক

নামে বেশ বড়সড় হলেও এশিয়া কাপের চলতি আসরে সেই নামের সুবিচার করতে পুরো ব্যর্থ দুইবারের এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। গ্রুপ পর্ব ও সুপার ফোরে দুই পুঁচকে হংকং ও আফগানদের হারালেও ভোতা ব্যাটিং ও নির্বিষ বোলিংয়ে শক্তিশালী ভারতের সঙ্গে দুটি ম্যাচেই উড়ে গেছে। খবর বাংলানিউজের।
সেই দলটির বিপক্ষে এশিয়া কাপের ফাইনালের মিশনের লড়াইয়ে মাশরাফিদেরই এগিয়ে রাখছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাবেক ন্যাশনাল গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার ও নারী ক্রিকেটের বর্তমান ইনচার্জ নাজমুল আবেদীন ফাহিম।
তার মতে অঘোষিত সেমিফাইনাল ম্যাচটিতে নামার আগে যে ধরনের মানসিকতা একটি দলের থাকা প্রয়োজন তার পুরোটাই টাইগারদের আছে। বিশেষ করে শেষ ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে পাওয়া জয়টি গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে তাদের বেশ চাঙ্গা রাখবে। পক্ষান্তরে এই বিবেচনায় পাকিন্তানের মানসিকতা অনেকটাই ভঙ্গুর।
‘পাকিস্তানের বিপক্ষে এ জাতীয় ম্যাচ জিততে যে মানসিকতা নিয়ে মাঠে যাওয়া দরকার সেটা আমাদের দলের আছে। শেষ ম্যাচটি যেভাবে জিতেছে সেটা মানসিকভাবে ওদের যথেষ্ট চাঙ্গা রাখবে। তারা জানে অনেক এরিয়াতেই তারা খারাপ করছে
তারপরেও একটা মিনিমাম পারফরম্যান্স কিন’ হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন এমন একটি জায়গায় দাঁড়িয়েছে যেখান থেকে ফাইনাল খেলা সম্ভব। সেই দরজা খোলা আছে। বিশেষ করে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের যে অভিজ্ঞতাটা আছে সেটা বাংলাদেশকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে।’
চলতি টুর্নামেন্টে পকিস্তান তাদের শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল। দুর্বল হংকংকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারায় তারা। তবে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে সেই ৮ উইকেটের হার। পরে আফগানদের বিপক্ষে জিতলেও সেটি ছিল কোনো রকমে ৩ উইকেটের। আর ভারতের বিপক্ষে সুপার ফোরে ভালো স্কোর করেও ৯ উইকেটে হেরেছিল পাকিস্তান।
মানসিকভাবে এগিয়ে থাকা টিম টাইগার্স ম্যাচটিতে এগিয়ে থাকবে ব্যাটিং টেকনিকেও। সময়ের সাথে ওয়ানডে ক্রিকেটে বদলে যাওয়া ব্যাটিংয়ের ধরনের সঙ্গে বাংলাদেশ যেভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে সেটা পাকিস্তান এখনও পেরে ওঠেনি বলে মত ফাহিমের। ‘যদি ৫১-৪৯ ভাগও হয় আমি বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখবো। কেননা ওদের খেলার ধরন দেখে মনে হয়েছে এখনও ওরা পুরোনো ধাচে খেলছে। ওয়ানডে টি-টোয়েন্টিতে ভাল বোলিং করলেও আধুনিক ব্যাটিংটা ওরা রপ্ত করতে পারেনি। ওদের দল ভাল কিন’ ওয়ানডে ক্রিকেট এর পরিবর্তনটার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেনি। আমার ধারণা সবদিক থেকে বাংলাদেশই এগিয়ে থাকবে।’
সেই পথটি আরও মসৃণ হবে যদি টাইগার ওপেনাররা দলকে দারুণ একটি শুরু এনে দিতে পারেন। ‘আমরা কিন’ প্রতিটি ম্যাচেই ওপরের দিকে ব্যর্থ হচ্ছি এবং পরে তার বোঝাটা মিডল অর্ডারের ওপর এসে পড়ছে। কোনদিন মুশফিক খেলেছে, কোনদিন মিঠুন আবার কোনদিন কেউই খেলতে পারেনি। যারা খেলেছে তাদের আত্মবিশ্বাসী মনে হয়নি। সেটা খুব জরুরি যে ওখানে যেন আমরা ভাল শুরু করে আসতে পারি। শুরুটা ভাল হলে ২৭০-২৮০ বা তারও বেশি করার ক্ষমতা আমাদের আছে। সেটা হলে জয়ের কাজটি আরও সহজ হয়ে যাবে।’ কিন’ কতটা যৌক্তিকভাবে এমনটা আশা করা সম্ভব যে ওপেনাররা ভাল করবেন? গেল চার ম্যাচে লিটন দাস এবং নিজের খেলা তিন ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্ত যেভাবে ব্যর্থ হয়েছেন তাতে এমন প্রত্যাশাটাই বা কতখানি সঙ্গত? এমন প্রশ্নের উদয় হওয়াটা নিশ্চয়ই অবান্তন্তর নয়।
সেই সংকট নিরসনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন এই ক্রিকেট বোদ্ধা। টুর্নামেন্টের মাঝপথে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া সৌম্যকে দিয়ে ওপেন করালে উদ্ভুত সংস্কট নিরসন হবে না তারই বা গ্যারান্টি কি? তাছাড়া সৌম্য তো প্রমাণিত পারফর্মার। হয়তো সামপ্রতিক ফর্ম তার অনুকূলে যাচ্ছে না। কিন’ তাই বলে সেই ভ্রান্তি নিয়ে তো তিনি আর বসে ছিলেন না।
মিরপুর ইনডোরে কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের সঙ্গে ব্যাটিং টেকনিক নিয়ে তিনি কাজ করেছেন সেটা ফাহিম ভাল করেই জানেন। তাই হয়তো তার এমন ইঙ্গিত। তাছাড়া ‘ফর্মে ফিরতে একটি ম্যাচই যথেষ্ট’ এ সত্য তার চাইতে বোধ করি আর কারোই ভাল জানার কথা নয়। ‘পরে যত ভাল প্লেয়ারই থাকুক না কেন শুরটা ভাল না হলে মেকআপ দেয়া সম্ভব না। শেষ ম্যাচে ইমরুল,রিয়াদ যেটা করেছে সেটা ব্যতিক্রম। আমার মনে হয় ওপেনিংয়ে একটা পরিবর্তন দেখতে পারি যেহেতু ইমরুল সৌম্যকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং ম্যাচটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া সৌম্য ওর ভুলগুলো নিয়ে দেশে থাকাকালীন ইনডোরে কাজও করেছে। সেটা যদি হয় তাহলে সে ভাল খেলবে। আর সৌম্য ভাল খেললে বাংলাদেশ দলের জন্য তা অনেক বড় বোনাস হবে।’
আজ বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আবুধাবিতে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালে যাওযার লড়াইয়ে নামবে টাইগাররা। ২৮ তারিখের ফাইনালে ইতোমধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ভারত।