আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ

সালাহ উদ্দিন সায়েম

আজ বিকেল থেকেই এক ফালি বাঁকা চাঁদ খুঁজতে লাখো মানুষের দৃষ্টি থাকবে পশ্চিম আকাশের কোণে। সন্ধ্যায় দেশজুড়ে মুখে মুখে থাকবে জিজ্ঞাসা- চাঁদ কি উঠেছে ? কিন’ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় আকাশে কালো মেঘের আড়াল হয়ে যেতে পারে শাওয়ালের সরম্ন সেই বাঁকা চাঁদ। সে আড়াল ঘুচাতে আছে সরকারি উদ্যোগ আয়োজন। একটি উচ্চড়্গমতা সম্পন্ন টেলিস্কোপ যন্ত্রের মাধ্যমে চাঁদ খুঁজবে আবহাওয়া স্টেশনগুলো।
আজ শুক্রবার চাঁদ দেখা গেলে রোজা হবে ২৯টি এবং ঈদ হবে আগামীকাল শনিবার। আর চাঁদ দেখা না গেলে ৩০ রোজা শেষে রোববার হবে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় উৎসব ঈদুল ফিতর। তবে গত বছর ২৯ রোজা শেষে ঈদ হয়েছিল।
এ বছরও ২৯ রোজা শেষে ঈদ হবে বলে আভাস দিয়েছে বাংলাদেশের জ্যোতির্বিজ্ঞানিদের সংগঠন ‘অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’। গত ৫ জুন সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশের আকাশ মেঘমুক্ত পরিষ্কার থাকলে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাবে। সে হিসেবে ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী শুক্রবার চাঁদ দেখা সাপেড়্গে শনিবার ঈদুল ফিতর পালিত হবে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
এদিকে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে আজ শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হচ্ছে।
সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর একদিন পর বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়। সে হিসেবে
বাংলাদেশে আজ সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
আকাশে চাঁদের সন্ধান মিললে সরকারি ঘোষণার সমানত্মরালে বেতার-টেলিভিশনে বাজতে থাকবে সাম্যের কবি নজরম্নলের ঈদের অমর আগমনী গান ‘রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’। পাড়া-মহলস্নায় মসজিদের মাইকে ভেসে আসবে ‘ঈদ মোবারক ধ্বনি’। শুরম্ন হবে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়। জানিয়ে দেওয়া হবে ঈদের জামায়াতের সময়সূচি। ঘরে ঘরে শুরম্ন হবে সাধ্যমতো উপাদেয় খাবার আয়োজনের তোড়জোড়। মুদি-সওদাপাতিতেই ব্যসত্ম হয়ে পড়বে মানুষ।
গত এক মাস ছিল সংযমের। মহান আলস্নাহর সন’ষ্টি ও নৈকট্য লাভের আশায় রোজা পালন করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। ঘরে ঘরে, মসজিদে-মক্তবে করা হয়েছে কোরআন খতম। ইবাদত-বন্দেগীর পাশাপাশি ছিল ঈদ উপলড়্গে সবার জন্য নতুন পোশাক কেনার চেষ্টা। রমজান শুরম্নর আগে থেকেই নগরীর শপিং কমপেস্নক্সগুলোতে কেনাকাটা জমে উঠে।
গতকাল বৃহস্পতিবারও নগরীর শপিংমলগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল। অবশ্য অধিকাংশ মানুষ ইতোমধ্যে পোশাক-পরিচ্ছদ কেনা শেষ করেছে। এখন সর্বশেষ অনুষঙ্গ হিসেবে আতর-টুপির মতো ছোটখাট সওদাপাতি বাকি রয়েছে। অবশ্য চাঁদ রাতের দিনেও অনেক পরিবার কেনাকাটা করে থাকে।
সবশেষে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করতে বহু কষ্টে বাড়ি ফেরার আয়োজন। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সড়কে যানজটের ভোগানিত্ম পেরিয়ে ইতোমধ্যে শিকড়ের টানে বাড়ি ফিরে গেছেন শহুরে মানুষেরা। প্রিয়জনের সাথে ঈদ উদযাপন এ দেশের আবহমান ঐতিহ্যের অংশ।
ঈদের দিনটি ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করায়। এদিক থেকে ঈদ কেবল আনন্দের বার্তাই নিয়ে আসে না, ইসলামের সাম্যের এক বড় পরিচয় উদ্ভাসিত হয় এই আনন্দঘন উৎসবের মধ্য দিয়ে। ধর্ম পরিচয় পেছনে ফেলে মুসলমানদের এ উৎসবের আবেশ অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেও ছড়াবে। আনন্দময় হয়ে উঠবে সারা দেশ।
সব ভেদাভেদ, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে ঈদগাহর জামাতে এক কাতারে শামিল হবেন সবাই। নামাজ শেষে একে অপরকে ‘ঈদ মোবারক’ বলে বুকে জড়িয়ে ধরবেন।

ইসলাম ধর্মের দুই ঈদের মধ্যে এক মাসের দীর্ঘ সিয়াম সাধনার কারণে ঈদুল ফিতরের জন্য প্রস’তি আয়োজন থাকে একটু বেশি। শুধু পোশাকে ঈদের আনন্দ সীমাবদ্ধ নয়, ঘরে ঘরে সাধ্যমতো নানা উপাদেয় খাবারের আয়োজন করেন সবাই। ‘সেমাইয়ের ঈদ’ নামে প্রচলিত এই ঈদে নানা রকম সেমাইয়ের সঙ্গে থাকবে নুডলস, ফল-ফলাদি, ফিরনি, পিঠা, পায়েস, হালিম, পোলাও, কোরমাসহ সুস্বাদু খাবারের সম্ভার।
তবে গত বছরের মতো এবারও চট্টগ্রামবাসীর আনন্দের ঈদে বাগড়া দিতে পারে বৃষ্টি। এবারের রোজা শুরম্নই হয়েছে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির সাথে। কিন’ রোজার মধ্যখানে তীব্র তাপদাহে পুড়েছে নগরী। রোজার শেষ দিকে রোজাদারদের যেন স্বসিত্ম দিতে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নেমেছে! আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার ঈদের দিন চট্টগ্রামে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টি হলে নগরবাসীর ঈদের আনন্দ সস্নান হয়ে যেতে পারে।