জব্বারের বলীখেলার ১০৯তম আসর

আজ কে হবেন চ্যাম্পিয়ন? গতবার বিদায় সম্মাননা পাননি দিদার

রুমন ভট্টাচার্য
13

ঐতিহাসিক আবদুল জব্বারের বলীখেলার ১০৯তম আসর আজ। নগরীর লালদীঘি মাঠে বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এই খেলা। প্রতিবছর বলীখেলায় বৃহত্তর চট্টগ্রামের দূর-দূরান্ত থেকে নামি-দামি অনেক বলী অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি অংশ নেন তরুণ ও অখ্যাত অনেক উঠতি এবং অপেশাদার বলীও। আর এই বলীখেলা দেখতে লালদীঘি ময়দানজুড়ে এবং এর আশপাশের এলাকার সুউচ্চ স’ান থেকে হাজার হাজার ক্রীড়ামোদি দর্শক প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে এ বলীখেলা উপভোগ করেন। এবার কে হবেন চ্যাম্পিয়ন-এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে নগরবাসী ও ক্রীড়ামোদি দর্শকদের মনে। আর তা জানতে আজ সবাইকে চোখ রাখতে হবে লালদীঘির মাঠে এবং অপেক্ষা করতে হবে বলীখেলার শেষ পর্যন্ত।
বলীখেলায় যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ও সিলেকশন পদ্ধতিতে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের কোনো সুযোগ নেই। দুটি প্রথাই বাতিল করা হয়েছে গত ২-৩ বছর আগে। সে কারণে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে একক চ্যাম্পিয়ন হতে হবে। লালদীঘি মাঠে আজ বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন নগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড এর রিজিওনাল ডিরেক্টর সৌমেন মিত্র।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে বেলা ১২টায় লালদীঘি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বলী খেলার জন্য ৫ ফুট উচ্চতার মঞ্চ প্রস’ত। মঞ্চের চারপাশে দেওয়া হয়েছে দুই স্তরবিশিষ্ট বাঁশের ঘেড়া। বাঁশের মাথায় লাগানো হয়েছে বিভিন্ন রঙের পতাকা। অতিথিদের বসার মঞ্চ প্রস’তির কাজও চলছে জোরেশোরে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন মাঠের ভেতরে। বলীতে অংশগ্রহণকারীদের নাম অন্তর্ভুক্তির কাজে ব্যস্ত কর্মকর্তারা।
এ সময় মাঠে কথা হয় আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও বৈশাখী মেলা কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহরলাল হাজারীর সাথে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সবরকম আয়োজন প্রায় সম্পন্ন। ইতোমধ্যে ১০৯ জন বলীদার নাম অন’র্ভুক্তি করিয়েছেন। আশাকরি এ সংখ্যা আরও বাড়বে। তবে কোনো নামি-দামি বলী এখনও তাদের নাম অন্তর্ভুক্তি করেননি। আজ সকাল ১১টা পর্যন্ত নাম অন’র্ভুক্তি করার সুযোগ রয়েছে।’
কিন’ গতকাল দুপুর ১টায় বলীর নাম লিপিবদ্ধকারী খাতায় গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ১২ জন বলী খাতায় নাম অন্তর্ভুক্তি করেছেন।
২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত বলীখেলার ১০৮তম আসরে টেকনাফের শামসু বলীকে মাত্র ১৭ মিনিটে পরাস্ত করে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ১০৮তম আসরটি স্মরণীয় করে রাখেন রামুর দিদার বলী। গতবারের খেলার মধ্য দিয়ে তিনি অংশগ্রহণের ১৭ বছর পূর্ণ করেন এবং এটিই ছিল খেলায় তাঁর শেষ অংশগ্রহণ। কথা অনুযায়ী এবারের ১০৯তম আসরে দিদার অংশগ্রহণ করছেন না। তাহলে এবার কি টেকনাফের শামসু নাকি তরুণ, অখ্যাত ও অপেশাদার কেউ চ্যাম্পিয়ন হবেন তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আজ বলী খেলার শেষ পর্যন্ত।
১০৮তম আসরই দিদার বলির শেষ আসর এবং আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকেও তাকে বিদায় সম্মাননা জানানোর সিদ্ধান্তের কথা সুপ্রভাতকে জানিয়েছিলেন কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী। কিন’ শেষ পর্যন্ত কিছুই আর হয়নি। এ নিয়ে দিদার বলী ও মেলা কমিটির ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া গিয়েছিল। সে খবর সুপ্রভাত বাংলাদেশ পত্রিকায় ২০১৭ সালের ২৬ এপ্রিল ১ম পাতায় প্রকাশিত হয়েছিল।
বিষয়টি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও বৈশাখী মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এবার দিদার বলী অংশগ্রহণ করবেন না।’
শেষ আসর হিসেবে তাকে বিদায় সম্মাননা জানানোর কথা ছিল মেলা কমিটির পক্ষ থেকে এ কথার উত্তরে তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, ‘সম্মাননা জানানোর কি আছে। এর আগেও তো অনেক বলীদার বিদায় নিয়েছে। তাহলে তো তাদেরও দিতে হবে। বিদায় সম্মাননা জানানো হয় সরকারি কর্মকর্তাদের।’
এ নিয়ে দিদার বলীর সাথে গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, ‘আয়োজক কমিটি আমাকে অবমূল্যায়ন করেছে। বলীদারদের সঠিক মূল্যায়ন না করার কারণেই ভালো কোনো বলিদার উঠছে না এবং বলীখেলার ঐতিহ্য নষ্ট হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন ‘মাঠে-ময়দানে কোনো ভালো খেলোয়াড় নেই। কারণ নেই কোনো প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণের ব্যবস’া। খেলোয়াড় তৈরি করার কোনো উদ্যোগ নেই আয়োজক কমিটিগুলোর। শুধু বছরে একবার বলীখেলার আয়োজন, এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলার প্রাইজমানি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমান সময়ের জন্য এটি উপযুক্ত নয়। এবারের বলীখেলায় অংশগ্রহকারীদের জন্য আমার শুভকামনা রইল।’
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১০৭তম আসরের জব্বারের বলীখেলার লড়াইয়ে রামুর দিদার বলী ও টেকনাফের শামসু বলী কেউ কাউকে নির্ধারিত সময়ে হারাতে না পারায় সিলেকশন পদ্ধতিতে নতুন চ্যাম্পিয়ন হন শামসু বলী। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত বলীখেলার ১০৬ ও ২০১৭ সালে ১০৮তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন রামুর সেই দিদার বলী।