আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে টোল বসছে!

ভূঁইয়া নজরুল

আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে প্রতিমাসে আসছে প্রায় চার লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল। বিদ্যুতের বাইরে ফ্লাইওভার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ফ্লাইওভারের নিচের রোড ডিভাইডারের বাগান ও পিলারে লাগানো সবুজ সিনথেটিক টার্ফ রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও অর্থের প্রয়োজন।
এসব অর্থের সংস’ান করতে ফ্লাইওভারে টোল চালুর বিকল্প নেই বলে ভাবছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কর্তা ব্যক্তিরা। প্ল্যানিং কমিশন থেকে ফ্লাইওভারগুলোতে টোল চালুর বিষয়ে একটি নির্দেশনাও রয়েছে বলে জানা যায়। আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে টোল চালু করা হবে কিনা জানতে চাইলে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘টোল চালুর বিষয়ে আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে ফ্লাইওভার মেইনটেনেন্সের জন্য অর্থের প্রয়োজন। এই অর্থের সংস’ান কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আগে আমরা ফ্লাইওভারটিকে পুরোদমে চালু করি, তারপর টোলের বিষয়টি নিয়ে ভাবা যেতে পারে। ’
ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএ’র নির্বাহি প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, ‘ফ্লাইওভারটি যে সংস’াই পরিচালনা করুক না কেন এর মেইনটেনেন্সের জন্য অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে প্রতিমাসে প্রায় চার লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল ঠিকাদারের কাছ থেকে যাচ্ছে। প্রকল্প শেষ হয়ে যাবার পর আর ঠিকাদার এই অর্থ পরিশোধ করবেন না। এছাড়া পুরো ফ্লাইওভারের রক্ষণাবেক্ষণ এবং ফ্লাইওভারের নিচে গার্ডেনিংগুলো ব্যবস’াপনার আওতায় আনতে হবে। তা পরিচালনা করতেও অর্থের সংস’ান লাগবে।’
মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারে ষোলশহর দুই নম্বর গেইট মোড়ে বায়েজিদ বোস্তামীর দিকে লুপ করা হয়েছে। এই লুপের মাধ্যমে বায়েজিদ দিক থেকে জিইসি মোড়ের দিকে আসা যাওয়া করা যাবে। এছাড়া জিইসি মোড়ে বসছে দুটি র্যাম। এই দুটি র্যামের মাধ্যমে জিইসি থেকে মুরাদপুরের দিকে যাওয়া এবং মুরাদপুর থেকে জিইসি মোড়ে নামার সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে গত রমজানের ঈদের আগে বায়েজিদ বোস্তামী রোড থেকে লুপ ব্যবহার করে ফ্লাইওভারে উঠার রাস্তাটি খুলে দেয়া হলেও নামার রাস্তাটি এখনো চালু করা হয়নি।
নানাদিকে উঠা-নামার সুযোগ থাকা ফ্লাইওভারটিতে কীভাবে টোল বসানো হবে তা জানতে চাওয়া হয় সিডিএ প্রকৌশলীদের কাছে। তাদের মতে- ফ্লাইওভারে উঠার সময় চারটি লেনকে একত্রিত করে টোল গেইট করা হবে। এরমধ্যে তিনটি লেন ব্যবহৃত হবে উঠার জন্য এবং একটি লেন দিয়ে অপর প্রান্ত থেকে আসা গাড়িগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বের হয়ে যাবে। ফ্লাইওভারের উপরেই টোল গেইট হবে এবং এর প্রভাবে প্রধান সড়কে যানজটের সুযোগ নেই। ফ্লাইওভারের সবকটি উঠার পয়েন্টে এধরনের টোলগেইট বসানো হতে পারে। এছাড়া যারা নিয়মিত যাতায়াত করবে তাদের জন্য প্রিপেইড টোল কার্ড সিস্টেম চালু করা হতে পারে।
সিডিএ’র মাধ্যমে বহদ্দারহাট ফ্লাইভার, দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার ও কদমতলী ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হলেও সেগুলোর তুলনায় আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার দীর্ঘ। আর এটিতে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে উঠা ও নামার সুযোগ রয়েছে। আর এই ফ্লাইওভারের সাথে যুক্ত হবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।
তবে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে টোল চালু নিয়ে সিডিএকে চিন্তা করতে হলেও ওয়াসা মোড় থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্মাণ হতে যাওয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যে টোল থাকবে তা প্রকল্প অনুমোদনের সময় বলে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৪৫৭ কোটি টাকায় মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৫৪ ফুট চওড়া ফ্লাইওভারটি মুরাদপুর এন মোহাম্মদ কনভেনশন সেন্টারের সামনে থেকে উঠে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের পশ্চিম গেটের সামনে এসে নেমেছে। ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স-রেনিকিন জেবি। ইতিমধ্যে চালু হয়ে যাওয়া ফ্লাইওভারটিতে জিইসি মোড়ে ওঠা ও নামার র্যামটি চালুর কাজ বাকি রয়েছে। এসব কাজ আগামী এক মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।