আওয়ামী লীগ পথসভায় চাঙা রাজনীতি সীতাকুণ্ডে সমাবেশ করা যায়নি

নিজস্ব প্রতিনিধি : পটিয়া, আনোয়ারা, সীতাকুণ্ড, চকরিয়া

ঘনিয়ে আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতি চাঙ্গা হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি টিম আজ রবিবার সকালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান মহাসড়ক হয়ে ‘নির্বাচনী রোড শো’ কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে। এতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, কক্সবাজারের চকরিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলা আওয়ামী লীগ পৃথকভাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানাতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগের পূর্বনির্ধারিত পথসভা হয়নি
আমাদের সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি জানান, সীতাকুণ্ডে পূর্বঘোষিত আওয়ামী লীগের পথসভা হয়নি। গতকাল শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপসি’তিতে এই পথ সভা হওয়ার কথা থাকলে অনুষ্ঠান শুরুর দুই ঘণ্টা আগে তা স’গিত করা হয়।
জানা যায়, নেতাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে সবাইকে একই মঞ্চে একত্রিত করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ এই পথ সভার ঘোষণা দেয়। সীতাকুণ্ডে এই ঘোষণাকে সামনে রেখে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা পোস্টার ও ব্যানার দিয়ে সড়ক ও
জনপথসহ অলি গলি দখলে নেন। এরি মধ্যে কিছু নতুন মুখ নৌকা প্রতীক প্রত্যাশায় সাংবাদিক সম্মেলনও করেন। সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা সবাই শনিবারের পথসভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মুখের কথার অপেক্ষার প্রতীক্ষায় ছিলেন। হঠাৎ নাটকীয়ভাবে শুরু হওয়ার দুই ঘণ্টা আগে পথসভা স’গিতের ঘোষণায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা আর ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
গুঞ্জন উঠে সমাবেশে যোগ দিলে লাশ পড়বে। এমন হুমকি পাওয়ার পর সমাবেশে যেতে অপারগতা জানিয়েছেন স’ানীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলম। এরপর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সীতাকুণ্ডে তাদের পথসভা স’গিত করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য দিদারুল আলম বলেন, সমাবেশের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় সমাবেশে যাচ্ছি না। সমাবেশে যোগ না দিতে কেউ হুমকি দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে কেউ হুমকি দেয়নি। তবে লোকজনের মুখে শুনেছি আমি সমাবেশে গেলে লাশ পড়বে। উল্লেখ্য সীতাকুণ্ডের বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি এম এ মামুনের সাথে বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের বিরোধ চলে আসছিল, বিরোধের জেরে দুই পক্ষের একাধিকবার সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, সমাবেশ স’গিত করার বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়নি। আমি বাইরে থেকে শুনেছি সমাবেশ হবে না। তবে কেউ কোন ধরনের হুমকির বিষয়ে আমাদেরকে অভিযোগ করেনি।

পটিয়া প্রতিনিধি জানান, দলীয় কোন্দলের কারণে পটিয়াতেই পৃথক তিন গ্রুপ আলাদাভাবে অবস’ান নেবে। বর্তমান সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর সঙ্গে দলের একটি অংশের বিরোধ থাকায় তিন গ্রুপ পৃথক পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে। বর্তমান সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী, সাবেক মহিলা এমপি চেমন আরা তৈয়ব ওবিজিএমইএ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির এবং যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম বদি পটিয়ার ভেল্লাপাড়া থেকে শুরু করে মুজাফরাবাদ পর্যন্ত এলাকায় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে অবস’ান নিবেন। ইতোমধ্যে মহাসড়কের দুই পাশে বিল বোর্ড, পোস্টার ও ব্যাপক ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। দলীয় কোন্দলের কারণে পটিয়া উপজেলায় পৃথক তিন গ্রুপ কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানাতে অবস’ান নিবেন। এমপি সামশুল হক চৌধুরীর লোকজন অবস’ান নিবেন পটিয়ার ভেল্লাপাড়া, মনসা বাদামতল, আমজুরহাট, উপজেলা সদর, মুজাফরাবাদ, কমলমুন্সির হাট ও পটিয়া সদর। সাবেক মহিলা এমপি চেমন আরা তৈয়ব ও বিজিএমইএ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছিরের নেতৃত্বে লোকজন ইন্দ্রপুল থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে অবস’ান নিবেন। এছাড়া যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম পটিয়া ভূমি অফিসের সামনে থেকে শুরু কমলমুন্সির হাট পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে অবস’ান নিবেন। পটিয়া উপজেলা সদরে তিন গ্রুপের অবস’ানকে ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। শুধুমাত্র কর্ণফুলী-আনোয়ারা উপজেলা এরিয়ার ক্রসিং এলাকায় এস. আর স্কোয়ারে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরে নেতৃবৃন্দ পটিয়া হয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দিবেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানাতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলায় তৃণমূল নেতা-কর্মীরা রাস্তার দুই পাশে অবস’ান নিবেন। তবে পটিয়াসহ যেসব এলাকায় দলীয় কোন্দল রয়েছে তা ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রোড শো কর্মসূচি সফল করতে হবে। তাছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাকেই মনোনয়ন দিবেন তার পক্ষেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আমাদের আানোয়ারা প্রতিনিধি জানান, আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে পথসভায় অংশ নিতে আজ আসছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রী নেতা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আনোয়ারায় পথসভার জন্য তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ নেতৃত্বে একটি দল গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মঞ্চ পরির্দশন করেন।
পথসভা উপলক্ষে দুই উপজেলার নেতাকর্মীদের সব প্রস’তি সম্পন্ন হয়েছে। নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে নতুন সাজে সেজেছে আনোয়ারার মূল সড়কের দু’পাশ । মঞ্চ পরির্দশনের সময় মোছলেম উদ্দিন আহমেদ ছাড়াও উপসি’ত ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক শাহাজাদা মহিউদ্দিন, প্রদীপ দাশ, দক্ষিণ জেলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী, কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছৈয়দ জামাল আহমেদ, আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী, কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রনি, আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মালেক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী একান্ত সহকারী সচিব রিদুয়ানুল করিম চৌধুরী সায়েম প্রমুখ।
কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছৈয়দ জামাল আহমেদের সভাপতিত্বে পথসভায় উপসি’ত থাকবেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও আনোয়ারা-কর্ণফুলী চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সাংসদ, ভূমিপ্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।

চকরিয়া প্রতিনিধি জানান, আজ রোববার আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের একটি নির্বাচনী টিমের আগমনকে ঘিরে ব্যাপক সাড়া পড়েছে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রতিটি জনপদে। চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলমের নেতৃত্বে মাসব্যাপী সাংগঠনিক প্রস্ততি সভা ও প্রচারণা চালানোয় দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝেও ফিরে এসেছে চাঙ্গাভাব। নেতাকর্মী ছাড়াও দুই উপজেলার সাধারণ মানুষও উৎসুক হয়ে আছেন কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছেন কিনা তা নিয়ে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপসি’তিতে চকরিয়ায় বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে নির্বাচনী শো-ডাউন করতেই প্রস’তি নেয়া হয়েছে এখানে।
একাদশ নির্বাচনের আগাম প্রচারণার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপির নেত্বত্বে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক পথে আজ রোববার কক্সবাজার অভিমুখে যাত্রা করবে বিশাল বহর। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে একাধিক পথসভায় অংশ নেবেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। নির্বাচনী বহরে থাকছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সাবেক আইনমন্ত্রী এডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ও উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়-য়া।
একইভাবে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠেও অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচনী জনসভা। এই জনসভাকে জনসমুদ্রে রূপ দিতে গত দশদিন ধরে নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলম। ইতোমধ্যে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগ, পৌরসভা আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস’তি সম্পন্ন করা হয়েছে। জাফর আলম জানান সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ রোববার অনুষ্ঠিতব্য চকরিয়া বাস টার্মিনালের জনসভা লাখো মানুষের উপসি’তিতে জনসমুদ্রে পরিণত হবে।
এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি সার্বিক প্রস’তি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম এবং দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। এ সময় দলের জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়নসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপসি’ত ছিলেন।