আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন সংলাপ হতে পারে, তবে নির্বাচন নিয়ে নয়

সুপ্রভাত ডেস্ক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংলাপের দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ করতে চাই না, আমরা একটা রাজনৈতিক দল। প্রয়োজনে সংলাপ হতে পারে, তবে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা দেখছি না। খবর বাংলানিউজ। শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের চারবছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দিয়েছেন তাতে সাধারণ মানুষ খুশি হয়েছেন। কিন’ বিএনপি হতাশ হয়েছে।
‘সংবিধান যে পথ রেখা দেখিয়েছে, সেই পথ বাদ দিয়ে আবার সংলাপ করতে হবে কেন? সংবিধানেই তো আছে কিভাবে নির্বাচন হবে! এটা (নির্বাচন) বিএনপির এজেন্ডা। নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিএনপির অধিকার, সুযোগ নয়। সরকার কী দয়া-দাক্ষিণ্য নিয়ে বসে আছে? দয়া করবে? তাদের আরও একবার সাধতে হবে কেন?
তিনি বলেন, নির্বাচন বিএনপির সুযোগ নয়, গণতান্ত্রিক অধিকার। তারা নির্বাচনে আসবে, সরকারের দয়ায় নয়। এটা তাদের বুঝতে হবে। এরপরও নির্বাচন করতে যদি কোনো অসুবিধা থাকতো, যদি একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন না থাকতোৃ! আমাদের তো সবকিছুই ঠিক আছে। কাজেই এখানে বসা-বসির (সংলাপ) কী প্রয়োজন? কোনো জটিলতা আছে বলে তো কেউ মনে করে না!
‘নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে। দুনিয়ার অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো এখানেও হবে। তখন সরকার একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, ইনক্লুসিভ নির্বাচনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে-এটাই নিয়ম, এটাই সংবিধান। এখন আমরা সংলাপের প্রয়োজনীয়তা দেখছি না।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের ব্যাপারে সংলাপের কোনো প্রয়োজন আমরা দেখছি না। সেরকম যদি কোনো সংকট সামনের দিনগুলোতে দেখা যায়, তাহলে পরিসি’তি বলে দেবে তখন কী করতে হবে।
‘তবে সংলাপের পরিবেশটা তো বিএনপিই রাখেনি,’ বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।
গত নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোন আলাপের প্রসঙ্গ তুলে ওবায়দুল কাদের বলেন, সেদিন তিনি কি নোংরা ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোনে জবাব দিয়েছিলেন, সেটা কি এদেশের মানুষ ভুলে গেছে? সমঝোতা হবে কার সঙ্গে? আগুন তাণ্ডবের সঙ্গে? যারা প্রধানমন্ত্রীকে তাদের নিজের বাড়িতে অপমান করলেন, সন্তানের লাশ সামনে রেখে-তাদের সঙ্গে?
‘নির্বাচন হবে নিয়ম অনুযায়ী। কুমিল্লায় হয়েছে, রংপুরে হয়েছে সামনে ঢাকা উত্তর সিটিতেও হবে। তারা আসবেন। আরেকবার সাধিলে খাইবো, এটা কি সমঝোতা? এটা তাদের অধিকার, এটা তাদের সুযোগ নয়।’ বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ক্রাইসিস পরিসি’তি সৃষ্টি হলে তারা যা করবেন, যা করতে চান, সে রকম পরিসি’তি তারা জনগণ দিয়ে করতে পারবেন না। জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করার সক্ষমতা বা সামর্থ্য তাদের নেই। ‘বাংলাদেশের জনগণ শেখ হাসিনার সততা, পরিশ্রম, কর্মনিষ্ঠা ও উন্নয়ন অর্জনে খুব খুশি, জনগণ আন্দোলনে আসবে না। তারা (বিএনপি) করতে চাইবে আগের বারের মতো আগুন সন্ত্রাস।’
আগুন সন্ত্রাসের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটা যদি এবার করা হয় তাহলে জনগণই সেটার প্রতিরোধ করবে। এর জন্য সংলাপের প্রয়োজন হবে না, মাঠেই সংলাপ হবে। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দফদর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ত্রাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, এসএম কামাল, আনোয়ার হোসেন ও উপ দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিল্পব বড়ুয়া প্রমুখ উপসি’ত ছিলেন। এর আগে শনিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল।