‘ত্রিশ বছর কাটিয়েছি জঙ্গলে-জঙ্গলে’

অস্ত্রসহ ইউপিডিএফ নেতার আত্মসমর্পণ খাগড়াছড়িতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি

দীর্ঘদিন বিভিন্ন আঞ্চলিকদলের হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়িত থাকার পর খাগড়াছড়িতে বিদেশি পিসত্মল ও গুলিসহ ইউপিডিএফ’র বিচার ও সাংগঠনিক পরিচালক আনন্দ চাকমা সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার মনোরঞ্জন চাকমার ছেলে।
বুধবার রাতে মহালছড়ি সেনাজোনের অধিনায়কের কাছে একটি ইউএসএ’র তৈরি পিসত্মল, ম্যাগজিনসহ তিন রাউন্ড গুলি নিয়ে আনন্দ চাকমা আত্মসমর্পণ করেন।
গতকাল দুপুরে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের আনন্দ চাকমা জানান, আদর্শহীন ইউপিডিএফ’র খুন, গুম, অপহরণ, চাঁদাবাজির কারণে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আশায় অস্ত্র সমর্পণ করেছেন। সরকার ঘোষণা দিলে ইউপিডিএফ’র অনেক নেতাকর্মী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য অপেড়্গা করছে।
আনন্দ চাকমা জানান,
প্রসিত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ-এর কাছে একে-৪৭, এসএমজি, চাইনিজ রাইফেল, এলএমজি, একাশি ও এম-১৬-এর মতো বিপুল ভারী আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।
রাঙামাটি জেলার নানিয়াচর সার্কেলের বিচার ও সাংগঠনিক শাখার পরিচালক আনন্দ চাকমা জানান, জীবনের ৩০ বছর আমি জঙ্গলে-জঙ্গলে ঘুরে জীবনযাপন করেছি। কিন’ দুঃখের বিষয়, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায় ও তাদের উন্নতির যে লড়্গ নিয়ে যুবক বয়সে এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়েছিলাম তা থেকে ইউপিডিএফ সম্পূর্ণভাবে বিচ্যুত হয়েছে। ইউপিডিএফ’র কোনো নীতি ও আদর্শ নেই। তারা সকলেই চাঁদাবাজি, মানুষকে হয়রানি আর ভয়ভীতি ও অন্যায়-অত্যাচার করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যসত্ম। গুম, খুন, হত্যা ও অপহরণই বর্তমানে তাদের কাজ। আমার স্ত্রী, এক ছেলে ও স্নাতকপড়ুয়া একটি মেয়ে রয়েছে। এ কারণে অনেক ভেবে-চিনেত্ম অন্যায়ের পথ ছেড়ে সুস’, স্বাভাবিক ও শানিত্মপূর্ণ জীবনে ফিরে আসার সিদ্ধানত্ম নিয়েছি। আমার মত অনেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়। কিন’ ইউপিডিএফ তাদের হত্যার ভয় দেখাচ্ছে। এ জন্য তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারছে না।
এ সময় তিনি আঞ্চলিক সংগঠনগুলো ৪ ভাগে বিভক্ত হয়ে খুন, গুম, অপহরণ, চাঁদাবাজিতে ব্যসত্ম উলেস্নখ করে তিনি বিগত সময়ে হত্যাসহ নিজেদের নেতাকর্মীদের নানা ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আনন্দ চাকমা জানান, জঙ্গলের অস্বাভাবিক জীবন ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনের ফিরে আসায় পরিবারের সদস্যরা আনন্দিত। আমার এক ছেলে সরকারি চাকরি করছে। আমার মেয়ে উচ্চশিড়্গায় শিড়্গিত হচ্ছে। আমি এই স্বাধীন দেশের উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত হয়ে আমার বাকি জীবনটা একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে সুখে-শানিত্মতে অতিবাহিত করতে চাই।