অশনি সংকেতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উখিয়ায় ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল করে রোহিঙ্গা সেবা

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া

উখিয়ার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়, তৎসংলগ্ন কুতুপালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালুখালী কাশেমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, নিকটস’ বালুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয়, থাইংখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয়, পালংখালী আঞ্জুমানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস’া কর্তৃক পরিচালিত রোহিঙ্গা সেবা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে গত ৫মাস ধরে। ফলে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়ালেখা, বার্ষিক ও সাময়িক পরীক্ষাসহ নানান বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষাঙ্গনে অশনিসংকেত দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষানুরাগী সচেতনমহল।
মঙ্গলবার সকালে উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ঘুরে দেখা যায়, ২৫টি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে ২১টি, বিজ্ঞানাগার, অনার্স ভবন, আইসিটি, প্রশাসনিক ভবন, হলরুমের ১৫টি কক্ষের মধ্যে ১৪টি বিজিবি ও সেনাসদস্যরা রোহিঙ্গাদের মধ্যে সেবা কার্যক্রম চালাতে ব্যবহার করছে। এছাড়া কলেজ ছাত্রছাত্রীদের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম খেলার মাঠে ২ একর ৬১শতক জায়গা জুড়ে বিভিন্ন স’াপনা নির্মাণ করেছে রোহিঙ্গা সেবায় নিয়োজিত ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডাব্লিউএফপি)। পরিবেশসম্মত পড়ালেখার অনুকূলে প্রতিষ্ঠিত উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজটি বাস্তবত এখন অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করে এইচএসসি দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্রী তসলিমা আক্তার বলেন, দীর্ঘ ৫মাস ধরে তারা কলেজে পড়ালেখা করতে পারছে না। এমনকি কলেজে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বাধা-বিপত্তির কারণে নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। যে কারণে অনেক ছাত্রছাত্রী কলেজে আসা-যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
দ্বিতীয়বর্ষের আরেক ছাত্রী ফজিলাতুন্নেছা রীমা অভিযোগ করে জানান, সেনা, বিজিবি ও ডাব্লিউএফপির দখলে কলেজের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ কক্ষ ও জায়গা চলে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারী তাদের কাজে জিম্মি হয়ে পড়েছে। যার ফলে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ হারিয়ে যেতে বসেছে। এ অবস’ায় এ শিক্ষাঙ্গনকে বাঁচিয়ে রাখতে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এ প্রসঙ্গে উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এম ফজলুল করিম জানান, শিক্ষার আনুষঙ্গিক কার্যক্রম হারানোর পরেও কলেজটি চালু রাখার জন্য শিক্ষকেরা অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার পর ছাত্রছাত্রীদের কোনো না কোনোভাবে পাঠদান করে যাচ্ছেন। আগামী ২ এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এ পরীক্ষা কোথায়-কীভাবে কোন অবস’ায় নেওয়া হবে তা নিয়ে শিক্ষকেরা অনিশ্চিত ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন।
শিক্ষাঙ্গনকে রোহিঙ্গা সেবার কাজ থেকে বিরত রাখার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ে আবেদন-নিবেদন, দেন-দরবার করেও কাজ হচ্ছে না। তিনি বলেন, এ কলেজে নিয়মিত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৭৪০জন। শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক। এসব সংকট-সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করা হয়েছে বলে কলেজ অধ্যক্ষ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
কক্সবাজার সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর অধ্যক্ষ এম ফজলুল করিম তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা কত দিন জিইয়ে থাকে তা কারো জানা নেই। উখিয়ার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখল করে রোহিঙ্গা সেবা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, উখিয়ার বেশ কয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রোহিঙ্গাদের সেবা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিশেষ করে উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে সেনা-বিজিবি ও ডাব্লিউএফপি থেকে মুক্ত করে কীভাবে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যায়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে লেখা হয়েছে। তিনি ডাব্লিউএফপি’র কর্মকাণ্ড নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, অবিলম্বে তাদেরকে অন্যত্র সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।