অলি-গলিতে শীতের পিঠা

শুভ্রজিৎ বড়ুয়া
Untitled-1

রূপ বদলের সাথে সাথে বদলে যায় পার্বণ প্রিয় বাঙালির মুখের স্বাদ। সকাল ও সন্ধ্যার হিম হাওয়ায় অল্প শীতের ছোঁয়া লাগতে না লাগতেই শহরের অলি-গলিতে শুরু হয়েছে শীতের পিঠা বিক্রি। অল্প পুঁজির এ মৌসুমি ব্যবসায় নাগরিক জীবনে হয়েছে কারো কর্মসংস্থান, আবার কারো শীতের প্রাপ্তি। কেননা বাঙালির চিরায়িত লোকজ সংস্কৃতিতে পিঠা-পুলি একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। কিন্তু ব্যস্ত এ নাগরিক শহরে পিঠা তৈরির সময় বা সুযোগ অনেকের হয় না বললেই চলে। তাই গ্রামগঞ্জে শীতের পিঠা বানানোর ধুম এখন শহরের অলি-গলিতে।
কালের গর্ভে শীতকালীন অনেক পিঠা হারিয়ে গেছে। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে দু’চারটি পিঠা ছাড়া অনেক পিঠার নাম, স্বাদ ও গন্ধ আজ অনেকের জানা নেই। কিন্তু ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা তেলের পিঠা চিনে না এমন কেউ নেই। শহরের অলি-গলির ছোট ব্যবসায়ীরা তাদের জীবিকার মাধ্যমে পরিচিত করে রেখেছে এসব পিঠা।
চালের গুঁড়া, নারকেল, গুড় দিয়ে বানানো হয় ভাপা পিঠা। গোল আকারের এ পিঠা পাতলা কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে ঢাকনা দেয়া হাঁড়ির ফুটন্ত পানিতে ভাপ দিয়ে তৈরি করা হয়। এ কারণেই এর নাম ভাপা পিঠা। এবার নগরীর অধিকাংশ জায়গা ঘুরে দেখা যায়, এ পিঠার বিক্রি বেশি। প্রায় সব পিঠা বিক্রি হয় ৫ থেকে ৮ টাকায়।
নগরীর দেওয়ান হাট মোড়ে রতন নামের এক ভাপা পিঠা বিক্রেতা বলেন, ‘দিনের বেলায় অন্য কাজ করি। আর সন্ধ্যা হলে পিঠা বিক্রি করি। এক দিক থেকে উপার্জন করলে তো আর সংসার চালানো যায় না।’
পিঠা বিক্রি করে কেমন উপার্জন হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমিতো বিকাল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা কিংবা ১০টা পর্যন্ত বসি। এর মধ্যে দু’চারশ পিঠা বিক্রি করি। এতে ইনকাম ভালোই হয়।’
রতনের দোকানে পিঠা খেতে আসা একজন বলেন, ‘বাসার চুলাতে তো আর পিঠা বানানো সম্ভব নয়। তাই দু’জন বন্ধু মিলে পিঠা খেতে এলাম। আমরা উনার কাছ থেকে পিঠা কিনে বাসাতে নিয়ে যাই। বাসার সবাই খেতে খুব পছন্দ করে।’
শীতকালীন পিঠার বিশেষ আবেদন থাকায় নাগরিক জীবনে শীতের পিঠার চাহিদা রয়েছে। তাই শীতের পিঠা কিনতে অলি-গলিতে জড়ো হয় পথচারী। এছাড়া নানা কুলিং কর্নারেও পিঠা বিক্রি হয়। এমনকি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত শীতের পিঠা উৎসব সাড়া ফেলে শহুরে জীবনে।