অর্ধেক রোবট অর্ধেক মানুষ

আখতারুল ইসলাম

না আমার আর তোমার সাথে খেলতে ইচ্ছে করছে না।
রোবট বলল, কেন?
তাসিন, চুপ করে রইল?
রোবটের সাথে কথা বলতেও ইচ্ছে করছে না। এই রোবট তার সাথে ছায়ার মত লেগে আছে?
রোবট আবার বলল, কী হল ভাই।
তাসিন আর চুপ করে থাকতে পারলো না রেগেমেগে বলল, আমি কী তোমার ভাই? একদম ভাই বলবে না, যাও। এখন যাও। তুমি নিজে নিজে খেল।
রোবট কথা মত, সামনে উঠানের মত যে এক চিলতে জায়গা আছে, তাতে খেলছে।
একবার বল করছে, স্ট্যাম্প ভাঙছে? আউট বলে কিন্তু ব্যাটসম্যান নাই।
আবার ব্যাটসম্যান হলে বল করার কেউ নাই। এভাবে কিছুক্ষণ করে খেলতে না পেড়ে বলছে মানুষ যে কত খেলা বের করল একজনে কি ক্রিকেট খেলা যায়? দোতলার বেলকনিতে দাঁড়িয়ে তাসিন মিটি মিটি হাসছে?
মা মা দেখ রোবট একা একা খেলছে?
মা দেখে, সত্যিই রোবট একা খেলতে চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না, তবু সে একই কাজটি বার বার করছে।
আচ্ছা তাসিন তুই তো যেতে পারিস?
না, মা আমি আর রোবটের সাথে খেলব না।
কেন বাবা, ওকি তোর কথা শোনে না।
শোনে তো? সেজন্যই খেলব না।
একজন মানুষ হলে তার ইচ্ছা অনিচ্ছা ভালো লাগা মন্দ লাগা থাকতো কিন্তু ওকে যেটা বলি সেটা করে? চাকরের মতো। তাই আমার খেলতে ইচ্ছে করছে না।
তোর বাবাকে আর একটা জৈবিক রোবট বানিয়ে দিতে বলব?
না, মা বাবাতো অর্ধেক রোবট, অর্ধেক মানুষ। কী বলছি এসব? তোর বাবা কত বড় বিজ্ঞানী।
দেশ বিদেশে কত সুনাম। তোমার বাবা যে রোবট তৈরি করেছে ইতিপূর্বে কেউ করতে পারেনি।
জানি জানি, আমার এসব রোবটটোবট ভালো লাগে না। আমি আমার বন্ধুদের সাথে খেলতে চাই।
এখন তুমি বন্ধু পাবে কই?
তোমার বন্ধু সবাই যে যার মত পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত, ওদেরও তোমার মত রোবট আছে। সেই রোবট সব কাজ করে দেয়।
দেখো না ও একবার বল করছে আবার ব্যাট ধরছে?
যা বলি শুধু তাই করে। নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোন দাম নেই।
তোমার বাবা চেষ্টা করছে। ইচ্ছা ও অনিচ্ছাসহ মানুষের মত রোবট তৈরি করতে।
যা মানুষের মত অনুভূতি প্রবণ হবে।
সেদিন কবে?
তোমার তা ভাবতে হবে না।
শোন, পড়তে বস, যাও।
রোবটকে বল, টেবিল ঠিক করে দিতে। যে বলা সেই কাজ, টেবিলে সব গুছিয়ে দিল। পড়লেখার সব কম্পিউটারে বই, খাতা কলম নেই। রোবট চালু করে দিল। পাশে বসে আছে, তুমি এখন যাও তো।
রোবট বলল, কোথায় যাবো?
যাও একটা দোকান থেকে আইসক্রিম নিয়ে আসো। রোবট দ্রুত হাঁটছে, রাস্তায় বিকট এক বিস্ফোরণের আওয়াজ কানে আসে তাসিনের।
মা, মা। কী হল দেখো তো কী শব্দ হল। যাই হোক, বাইরে কত কিছু হবে। তোমার সে দিকে মন দিয়ে লাভ নেই। তুমি পড়ালেখা করছ। তা কর।
গেইটে ট্রাফিকসহ অনেক মানুষের চেঁচামেচি চিৎকার। আমি ও মা বের হচ্ছি।
দেখি হাত পা ছিন্ন বিচ্ছিন্ন রোবট। মাথার খুলি ভাঙা, তারগুলো ঝুলছে।
মা জানতে চাইলো কী হয়েছে, রোবট রাস্তা পার হচ্ছিল। একটা গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়ে এ অবস্থা। গাছের ছায়ার কারণে পথ দেখা যাচ্ছিল না তাই।
তাসিন, তোমার বাবাকে ডাক।
তাসিন বাবা বাবা ডাকতে ডাকতে উপরে ওঠে। ঘরের দরজা বন্ধ, বন্ধ ঘরে ড. মঈনউদ্দিন গবেষণা করছে।
বাবা! বাবা!
কিন্তু গবেষণায় ব্যস্ত।
দরজা খোলো বলতে, বাবার গবেষণায় সাহায্য করা এক রোবট দরজা খোলে দেয়।
স্বাগতম।
আরে রাখ স্বাগতম।
বাবা বাবা! রোবট রাস্তায় অ্যাক্সিডেন্ট করেছে।
কী? বলে ড. মঈনউদ্দিন বলল কোথায়
ওকে আমি আইসক্রিম আনতে বলেছিলাম আর…
নো প্রবলেম।
দেখি।
একজন ট্রাফিক বলল। স্যার রাত বিরাতে রোবট দিয়ে কিছু না আনতে দিলে হয় না।
ড. মঈনউদ্দিন আহত রোবটের বুকের পাঁজরের পাশের কপাটিকা খুলে একটা সুইচ অন করলে, ধোঁয়া বের হওয়া বন্ধ হয়।
ওকে নিজ গবেষণা কক্ষে নিয়ে সারিয়ে তুলতে সচেষ্ট হয়।
তাসিনকে বলল, চিন্তা কর না বাবা। দরজায় থাকা রোবটকে বলল যাও তুমি তাসিনের কাজে যাও। ওর সাথে খেলবে, ওর কাজ করবে।
তাসিন, আপাতত এ তোমার বন্ধু রোবট।
তাসিন বলল, আবার সেই রোবট।