মেট্রোপলিটন চেম্বারে প্রাক বাজেট সংলাপে বক্তারা

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বার্থেই চট্টগ্রামকে গুরম্নত্ব দিতে হবে

ন্যায্যতাভিত্তিক অনত্মর্ভূক্তিমূলক বাজেট নিশ্চিতে জাতীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বার্থেই চট্টগ্রাম’র চাহিদাকে সর্বাধিক গুরম্নত্ব দেয়ার পরামর্শ এসেছে প্রাক বাজেট আলোচনায়। চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম ও পূর্বাশার আলো’র যৌথ উদ্যোগে অদ্য ১৫ই মে ২০১৮ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের কনফারেন্স হল’এ মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন’র সভাপতিত্বে প্রাক বাজেট সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম’র চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন কর্তৃক লন্ডন থেকে প্রেরিত সূচনা বক্তব্য পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়। পূর্বাশার আলো’র সভাপতি নোমান উলস্নাহ বাহার’র সঞ্চালনায় ‘জাতীয় বাজেট চট্টগ্রাম’ শীর্ষক সংলাপে অতিথি আলোচক ছিলেন- চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রাক্তন মেয়র ও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি)’র প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, ইউএসটিসি’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়-য়া, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ নূর নবী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)’র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. জুলকরনাইন, জাতীয় সমাজ কল্যান ফেডারেশন কেন্দ্রিয় সদস্য সৈয়দ মোরশেদ হোসেন, প্রিন্সিপাল ড. সানাউলস্নাহ, জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ এলিট, চট্টগ্রাম প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি এমএ সবুর, তরম্নণ উদ্যোক্তা মঞ্জুরম্নল হক, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি’র চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, বাংলাদেশ ননপ্যাকার ফ্রোজেন ফুডস এঙপোর্ট এসোসিয়েশন’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুব রানা, লায়ন ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল’র ৩১৫ বি ফোর’র ডিস্ট্রিক্ট সেক্রেটারী লায়ন এম এ হোসেন বাদল, ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম, বাংলাদেশ’র কেন্দ্রিয় সভাপতি দেবাশীষ ত্রিপুরা, কৃষক প্রতিনিধি অসীম পুরোহিত, এডভোকেট মাসুদ আলম বাবলু প্রমুখ। সংলাপে চসিক’র প্রাক্তন মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে স’ানীয় নেতৃত্বের সম্মিলিত ও সুদৃঢ় নেতৃত্ব প্রয়োজন। পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য বন্দর নগরী চট্টগ্রামকে প্রাদেশীক সরকার গঠনের বিকল্প নেই। চট্টগ্রামে মেট্রোরেল চালু, কালুরঘাট রেলওয়ে সেতু নির্মাণ, নগরীর বাস টার্মিনাল, পার্ক প্রয়োজন। বক্তারা বলেন, জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম’র উন্নতি মানে দেশের উন্নতি, কাজেই এটা কোন আঞ্চলিক ইস্যু নয়। চট্টগ্রামকে সার্বিকভাবে প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে রড়্গা ও চট্টগ্রাম বন্দরের সড়্গমতা বৃদ্ধিতে এবং উন্নয়নে আসন্ন বাজেটে পর্যাপ্ত ও স্বতন্ত্র বাজেট নির্ধারণ প্রয়োজন। বাণিজ্য নগরীর উন্নয়ন ত্বরাণ্বিত করে বিশ্বমানের নগরে উপনিত করতে বহুমাত্রিক কার্যকর পদড়্গেপ ও পরিকল্পনা বাসত্মবায়ন করতে হবে। বৃহত্তর চট্টগ্রামে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা, বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক বস্নু ইকোনমি’র সম্ভাবনাকে অর্থবহ করা, পর্যটন শিল্পের বিকাশ সাধনে বিশেষ পদড়্গেপ নেয়া জরম্নরী। তীব্র যানজটে নিয়মিত প্রায় অচল হয়ে পড়ছে দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন বলে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। অথচ যানজট নিরসনে দুই লেন থেকে মহাসড়ক চার লাইনে উন্নীত করা সত্ত্বেও যানজট দিন দিন তীব্রতর হয়ে উঠছে। দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের দুই তৃতীয়াংশের বেশী পরিচালিত হয় ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোর দিয়ে। বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সাথে ঢাকার যোগাযোগ আরও সহজতর ও যানজট মুক্ত করার লড়্গ্যে আট লেন’এ উন্নিতকরণ ও সময়োপযোগী সিদ্ধানত্ম গ্রহণ করতে হবে। তরম্নণ উদ্যোক্তাদের চাহিদার প্রতি লড়্গ রেখে বাজেট প্রণয়ন জরম্নরী। তরম্নণদের উদ্যোগে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বাজেটে বিশেষ তহবিল গঠন এবং ব্যাংক ঋণের সুদহার ও জামানতের ড়্গেত্রে ছাড় দিলে উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক সৃজনশীল ধারণাগুলো বাসত্মবায়নের মুখ দেখবে। সমৃদ্ধ অর্থনীতি নিশ্চিতে তরম্নণ সমাজকে গুরম্নত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন বক্তারা। এছাড়া আলোচকরা বলেন, দড়্গ মানব সম্পদ তৈরিতে কর্মমূখি শিড়্গার বিকাশ প্রয়োজন। নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ প্রণোদনা দেয়া জরম্নরী। বেকারত্ব মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বিপুল কর্মসংস’ান তৈরিতে সরকারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কর্মসংস’ান সৃষ্ঠিতে প্রাইভেট সেক্টরকে এগুতে হবে। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত প্রকল্প দ্রম্নত বাসত্মবায়নে মনোযোগী হতে হবে। কর্ণফুলীর উপর ব্যবহার অনুপযোগী কালুরঘাট রেলওয়ে সেতু দ্রম্নত নির্মাণে বরাদ্ধ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিল্পায়নে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, পানি গ্যাস নিশ্চিত করা আবশ্যক। চট্টগ্রাম- কঙবাজার সড়ক চার লেন’এ উন্নিত করতে বরাদ্ধ রাখা হোক। চট্টগ্রাম মহানগরির রাসত্মাঘাট সমূহ প্রশস’ করে শহরের সৌন্দর্য্য সমুন্নত করতে হবে। নির্বাচনী নয়, গণমুখী ও বাসত্মবায়ন যোগ্য সুষম বাজেট চাই। জাহাজ নির্মাণ শিল্পে অল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদে ঋণের সুযোগ রাখা প্রয়োজন। কৃষি, শিড়্গা, স্বাস’্য, অবকাঠামো ও যোগাযোগ খাতকে টেকসই করার বিকল্প নেই। ট্যাঙ প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। এসএমই খাতকে উন্নত করলে অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চার সৃষ্টি হবে। বাজেটে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া উচিত। কর্ণফুলী নদীর দূষন রোধ করে ড্রেজিং করতে হবে। বাণিজ্যিক রাজধানীর মহিমাকে সমূজ্জল করতে ব্যাংক-বীমা ও শিপিং হেড অফিস চট্টগ্রামে স’াপন করতে হবে। রফতানি যোগ্য শিল্পায়ন গড়ার জন্য শিল্পোদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে হবে। চট্টগ্রামের উপকূলীয় জনপদের মানুষগুলো জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুকি নিয়ে সমুদ্রপাড়ে বসবাস করছে। তাদের জন্য আলাদা বাজেট বন্টন সর্বোচ্চ মানবিক উদ্যোগ। চট্টগ্রামের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য নিরপাত্তা প্রদানের দায়িত্ব সরকার বাহাদুরের। বিজ্ঞপ্তি