অরিত্রীর আত্মহত্যা অনেক ভুল আচরণকে চিহ্নিত করল

সম্পাদকীয়

একজন কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনায় দেশের সর্বসত্মরের মানুষ শোকাহত। সারাদেশে এই ঘটনার প্রতিবাদ হচ্ছে, ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচার দাবি করা হচ্ছে। গত রোববার রাজধানী ঢাকার নামকরা স্কুল ভিকারম্নননিসা প্রভাতী শাখার শিড়্গার্থী অরিত্রী অধিকারী সমাজ পরীড়্গা দিচ্ছিল। স্কুল কর্তৃপড়্গের দাবি সে সময় অরিত্রী মোবাইল ফোনে নকল নিয়ে টেবিলে রেখে লিখছিল। এ কারণে তার পরদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যড়্গ অরিত্রীর বাবা-মাকে স্কুলে তার কড়্গে ডেকে নেন। স্বজনদের দাবি এ সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যড়্গ অরিত্রীর সামনে তার বাবা-মাকে অপমান করে। মেয়ে তার জন্য বাবা-মাকে অপমানিত হতে দেখে বাসায় ফিরে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে।
এই ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের শিড়্গার্থী-অভিভাবকরা ড়্গোভে ফেটে পড়ে। শিড়্গার্থীরা পরীড়্গায় অংশ নিতে অস্বীকার করে ছয় দফা দাবি পেশ করে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যড়্গসহ কিছু শিড়্গক ও গভর্নিং বডির সকল সদস্যের পদত্যাগ দাবি করে। এই ঘটনার পর বহু সংখ্যক শিড়্গার্থী ও অভিভাবক এই শিড়্গাপ্রতিষ্ঠানের বিরম্নদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম ও অশোভন আচরণের অভিযোগ তুলে ধরে গণমাধ্যমে।
এই পরিসি’তিতে গতকাল শিড়্গামন্ত্রী অভিযুক্ত তিন শিড়্গকের এমপিও বাতিলের পাশাপাশি তাদের বিরম্নদ্ধে বিভাগীয় মামলা করাসহ আইনগত ব্যবস’া গ্রহণের নির্দেশ দেন। তার আগে শিড়্গা মন্ত্রণালয় ঢাকার এ নামি শিড়্গাপ্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যড়্গ নাজনীন ফেরদৌসসহ তিন শিড়্গককে বরখাসত্ম করে। অধ্যড়্গ ছাড়া অন্য দুজন শিড়্গক হলেন, প্রভাতী শাখার শিফট ইনচার্জ জিনাত আরা ও ক্লাস টিচার হাসনা হেনা।
ঘটনাটি অত্যনত্ম দুঃখজনক। একজন শিড়্গার্থী ভুল করতেই পারে। শিড়্গাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শুধু শিড়্গা প্রদান করাই নয়। শিড়্গার্থীদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা। সে ড়্গেত্রে অরিত্রী যদি অনিয়ম কিছু করে থাকে তার জন্য তাকে শাসিত্মর পাশাপাশি তার ভুল শোধরানোর পথও বাতলে দেওয়া। সে ড়্গেত্রে অভিভাবককে অবহিত করাও তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তবে সে ড়্গেত্রে স্কুল কর্তৃপড়্গকে সুন্দর ও শোভন পদ্ধতি অনুসরণ করা বাঞ্চনীয়। সনত্মানের সামনে পিতা-মাতাকে অপমান করা কোনোভাবেই কাঙিড়্গত আচরণ নয়।
একজন কিশোরীর মনে কতটা রেখাপাত করলে সে আত্মহত্যার মতো সিদ্ধানত্ম নিতে পারে তা ভেবে দেখা দরকার। অরিত্রীর আত্মহত্যা আমাদের অনেক ভুল আচরণকে চিহ্নিত করে গেল। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচুর প্রতিক্রিয়া লড়্গ্য করা গেছে। অনেকে যার যার শিড়্গাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। অনেক শিড়্গকের আচরণ নিয়েও চরম অসন’ষ্টি ব্যক্ত করেছেন। শিড়্গার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে শিড়্গক ও স্কুল কমিটির বিভিন্ন কর্মকর্তার অশোভন আচরণের কথা বলেছেন।
ইদানিং কিশোর-তরম্নণদের মধ্যে আত্মহত্যার মতো ঘটনার প্রবণতা লড়্গ্য করা যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে সমাধানযোগ্য এমন অনেক তুচ্ছ ঘটনার কারণেও তারা আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। এটি এখন ভাববার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্ভবত আমরা বাবা-মা কিংবা শিড়্গক-অভিভাবকরা এইসব কিশোর-তরম্নণদের মনোজগতের বিষয়ে উদাসীন আছি। একটি মানসিক দূরত্বও বোধহয় এর পেছনে কাজ করছে। ফলে এই প্রজন্মের সনত্মানদের আবেগ-অনুভূতিকে আমরা যথার্থভাবে বুঝতে পারছি না। এ ড়্গেত্রে পিতা-মাতাসহ শিড়্গকদেরও একটি বড় ভূমিকা পালণ করতে হবে। তাদের প্রতি সদয় আচরণ করতে হবে এবং সে সাথে তাদের কথাও শুনতে হবে। এখানে গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের আচরণগত ত্রম্নটিগুলোও শোধরাতে হবে। অন্যকে সম্মান করে কথা বলার শিড়্গাটি সবাইকে মেনে চলতে হবে।