অমর একুশে বইমেলার ১১তম দিন লোকসংগীতের সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে গণসংগীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিপীড়িত গণমানুষের শোষণ মুক্তির সংগীতই এক কথায় গণসংগীত। গণসংগীতের চর্চাকে আরো শক্তিশালী ও বিকশিত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। গণসংগীত যেকোনো সুরে আঞ্চলিকতা সহকারে গাওয়া যায়। যে কারণে গণসংগীতের গণমুখিতা সবার চেয়ে ভিন্ন। আমাদের লোকসংগীতের ধারার সমপ্রসারণ ঘটিয়েছে গণসংগীত। সেই সাথে আমাদের নাট্যচর্চা মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ ফসল।
গতকাল অমর একুশে বই মেলার ১১তম দিন ‘নাটক ও গণসংগীত’ বিষয়ক আলোচনায় উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন বক্তারা। আলোচনায় উদ্বোধক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মহীবুল আজিজ। প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা ।
ড. মহীবুল আজিজ বলেন, গণসংগীত মানুষের সচেতন জীবন সংগ্রামের ফসল। বলা যেতে পারে, জাতীয় চেতনার ধারা যেখানে আন্তর্জাতিক, মেহনতী মানুষের আন্দোলনের সমুদ্রে মিশেছে, সেই সাগর সঙ্গমে গণসংগীতের উৎপত্তি। শিল্পী সংগ্রামীরা গণসংগীতকে এ দেশে আন্দোলন-সংগ্রামে প্রয়োগ করেছিলেন সময়োপযোগী সাংস্কৃতিক মাধ্যম হিসেবে।
নাটক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আমাদের নাট্যচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের বৈরী পরিবেশমুক্ত হয়ে নাট্যকারগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে নাটক রচনা করেন। স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে নাটকের মূল বিষয়বস’ ছিল সামাজিক ও বিপ্লবনির্ভর। কিন’ স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নাটকে স’ান পায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাস্ততা, রোমান্টিকতা এমনকি কমেডি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেন, সংগীত মুষ্টিমেয় কিছু মধ্যবিত্তের সংস্কৃতিচর্চার মধ্যে আটকে থাকেনি, বেরিয়ে এসেছে নিপীড়িত মানুষের সংগ্রামে সহযোদ্ধা হয়ে। ব্রিটিশ বিদায়ের পর এটা আরো চূড়ান ্তরূপে প্রকাশ হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সর্বহারা মানুষের মুক্তির প্রশ্নটি। সেই মুক্তির তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যাত্রা শুরু করে গণসংগীত।
বাংলাদেশের নাট্যচর্চা নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাট্যচর্চা মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ ফসল। স্বাধীনতাযুদ্ধের মধ্য দিয়েই আমাদের নাট্যচর্চায় নতুনভাবে গতি সঞ্চার হয়েছে। সেই চেতনাবহ ধারা প্রবহমান।
তিনি বইমেলা নিয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ঢাকার পরে চট্টগ্রামে সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে এই বইমেলা যেন অনাগত কাল পর্যন্ত চলে।
গতকাল মেলার মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল নাটক, মুকাভিনয় ও গণসংগীত পরিবেশনা। এছাড়া অনুষ্ঠানে ‘ভূখা গায়েন’ নামক নাটকে মুকানিভয় করেন মাসুদুর রহমান। গণসংগীত পরিবেশনায় ছিল সৃজামি সাংস্কৃতিক অঙ্গন। নাটক ‘একুশের ইতিকথা’ পরিবেশন করে ‘কথক থিয়েটার’। নাটকটি রচনা ও পরিচালনায় ছিলেন শোভনময় ভট্টাচার্য।
গতকাল নতুন তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। তারমধ্যে প্রতিভা প্রকাশনী থেকে মুক্তিযোদ্ধা মিনু রানী দাসের দুটি বই যথাক্রমে ‘একাত্তরের বীরঙ্গনা নীলাঞ্জনা’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধ: স্বাধীন বাংলাদেশ নারীর অবস’ান’। এছাড়া শব্দশিল্প প্রকাশনা থেকে কবি নজরুল জাহানের ‘আগুনে ফাগুনে সেই পত্র’ ।
আজকের কর্মসূচি: আজ আন্তর্জাতিক বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিকাল ৩ টায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে একুশে পদক এবং সাহিত্য সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করা হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন।