অবৈধ ব্যাটারি রিকশা : অভিযানের আড়ালে পুলিশের বাণিজ্য!

মোহাম্মদ রফিক

নগরের চকবাজার এলাকায় অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা আটকের নামে পুলিশ বাণিজ্য করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানকার ভুক্তভোগী কয়েকজন ব্যাটারি রিকশার মালিক অভিযোগ করেন, গত বুধবার রাতে কেবি আমান আলী রোডে সুমন মজুমদার ও সজল দাশ নামে দুইজনের গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা আটক ও টাকা আদায় করে পুলিশ। চকবাজার থানার এসআই পল্টু বড়ুয়া এতে নেতৃত্ব দেন ।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) সালেহ মো. তানভীর বলেন, ‘অবৈধ ব্যাটারি রিকশা আটকের নামে বাণিজ্য করার প্রশ্নই উঠে না। কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সুমন মজুমদারের অভিযোগ, তার ১৪টি ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ তার গ্যারেজ অভিযান চালায়। এসময় গ্যারেজ থেকে সব রিকশা বের করে দেয়া হয়। রিকশাগুলো ছেড়ে দিতে বললে পুলিশের সঙ্গে আসা সাদা পোশাকধারী একজন সুমনকে বলেন, ‘তোমার ১৪টির মধ্যে পাঁচটি রিকশা থানায় নিয়ে যাব। বাকিগুলো গ্যারেজে রাখতে হলে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে, না দিলে বাকি ৯টি ব্যাটারি রিকশা কাল (বৃহস্পতিবার) আটক করে নিয়ে যাওয়া হবে।’
দেনদরবার করে ২০ হাজারের পরিবর্তে ১০ হাজার টাকায় বাকি ৯টি রিকশা গ্যারেজে রাখার রফা করেন সুমন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সুমন মজুমদার থানায় গিয়ে সাদা পোশাকধারী ওই ব্যক্তির হাতে ৯ হাজার টাকা গুঁজে দেন। সুমন সাদা পোশাকধারী ওই ব্যক্তির নাম জানাতে পারেননি।
সুমন মজুমদার সুপ্রভাতকে বলেন, ‘সাদা পোশাকধারী ওই লোক এসআই পল্টু বড়ুয়ার সঙ্গে আমার গ্যারেজে এসেছিলেন। তিনি আমাকে পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়েছেন।’
দু’টি ব্যাটারি রিকশার মালিক সজল দাশ অভিযোগ করেন, বুধবার রাতে তার গ্যারেজ থেকে দুটি ব্যাটারি রিকশা আটক করে থানায় নিয়ে যান এসআই পল্টু বড়ুয়া। এসময় তিন হাজার টাকা দাবি করলে পুলিশের ওই সোর্সকে দুই হাজার টাকা দেন সজলের নিয়োগ দেওয়া রিকশা চালক সেলিম। আটক রিকশা দুটি ছেড়ে দেওয়ার শর্তে অবশিষ্ট ১ হাজার টাকা গতকাল বৃহস্পতিবার দেওয়ার কথা ছিল সেলিমের। কিন্তু এক হাজার টাকা না দেওয়ায় আটক রিকশা থানা থেকে আর ছাড়ানো যায়নি বলে জানান সজল দাশ।
এর আগে গত বুধবার রাত দশটার দিকে কে বি আমান আলী রোডে মোহাম্মদ রফিক নামে এক ব্যক্তির গ্যারেজে অভিযান চালায় পুলিশের আরেকটি দল। এসময় তার গ্যারেজ থেকে ব্যাটারি রিকশার দুটি ব্যাটারি ও চার্জার জব্দ করে নিয়ে যায় পুলিশ। তবে এসময় তার কাছে পুলিশ কোনো টাকা পয়সা দাবি করেননি বলে জানান ব্যাটারি রিকশার মালিক রফিক।
সুমন মজুমদার ও সজল দাশের গ্যারেজে অভিযান চালানোর কথা স্বীকার করেছেন চকবাজার থানার এসআই পল্টু বড়ুয়া। তবে তিনি সাদা পোশাকধারী কোনো সোর্সের মাধ্যমে সুমনের কাছ থেকে ৯ হাজার ও সজলের রিকশাচালক সেলিমের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এসআই পল্টু বড়ুয়া সুপ্রভাতকে বলেন, ‘বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় কেবি আমান আলী রোডে অবস্থিত সুমন, সজল, আবেদীন ও মান্নানের গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে ১৫টি অবৈধ ব্যাটারি রিকশা আটক করেছি। তবে অভিযানে গিয়ে কারো কাছ থেকে টাকা পয়সা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।
সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার থেকে নগরজুড়ে অবৈধ ব্যাটারি রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে নগর ট্রাফিক পুলিশ। নগর পুলিশের দুটি ট্রাফিক বিভাগ ৮টি দলে ভাগ হয়ে এ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান সিএমপির ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (উত্তর) মো. মহিউদ্দিন।