অবিবেচনাপ্রসূত ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত

প্রফেসর আব্দুল মান্নান প্রাক্তন ছাত্র, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ইউজিসির বর্তমান চেয়ারম্যান

১৯৪৭ পরবর্তীকালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর পুরো পাকিস্তান তথা পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তান মিলে কেবল দুটো বিশেষায়িত কলেজ ছিল। একটি হল লাহোরের ‘হেইলি কলেজ অব কমার্স’ যা বর্তমানে ‘হেইলি কলেজ অব ব্যাংকিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট’ নামে পরিচিত। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আই.কে গুজরালসহ অনেক বিখ্যাত মানুষ এখানে পড়াশোনা করেছেন। এই কলেজটির কেবল নাম পরিবর্তন হলেও এর ভেতর-বাহির, অন্তর্ভূক্ত পাঠ্যবিষয়সহ সব এখনও অবিকল রেখে দেওয়া হয়েছে। এমনকি ওইসময়ে যে চালাঘর ছিল তাও। কলেজ ক্যাম্পাসে সময়ের প্রয়োজনে নতুন নতুন বিল্ডিং
নির্মাণ হয়েছে ঠিকই, কিন’ পুরনো চিহ্নগুলো অবিকল ধরে রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশেষায়িত কলেজটির নাম হল, আমাদের গর্বের প্রতীক ‘চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ’। এই কলেজটি হল কলকাতার ‘গোয়াঙ্কা ইনস্টিটিউট অব কমার্স’ এর একটি অংশ যা পাকিস্তান সৃষ্টির পর কলেজটির বই-চেয়ার পর্যন্ত অর্ধেক ভাগ হয়ে তৎকালীন পূর্ব বাঙলার চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। সেই সময় হতে পঠন-পাঠনে এটি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম ছড়াতে শুরু করে। এই কলেজে পড়াশোনা করে কত কত গুণী মানুষের জন্ম হয়েছে! এই কলেজে পড়িয়েছেন আব্দুর রশিদ, আব্দুস সোবহান, শওকত ওসমান, মমতাজ উদ্দিন, নুরুল আবছার খান, আব্দুল হাইয়ের মতো শিক্ষক!
এখন এই কলেজের স্বাতন্ত্র্য ও ঐহিহ্য নষ্ট করে যেকোন যুক্তিতে বাংলা, ইংরেজি বা অন্য যেকোন বিষয় ঢুকানো উচিত বলে মনে করি না। এসব বিষয় পড়ানোর মতো চট্টগ্রামে ভুরি ভুরি আরো কলেজ আছে। চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে বাংলা, ইংরেজি পড়ানোর খবর শুনে এই কলেজের একজন সাবেক ছাত্র হিসেবে আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি। এটি একটি অবিবেচনাপ্রসূত ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাদের উদ্যোগে এই কাজটি হয়েছে এখন তাদের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাতে কলেজটি আগের অবস’ায় ফিরে আসে। কমার্স কলেজ ইউজিসির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয় বলে আমি নিজে কোন ব্যবস’া নিতে না পারলেও বিষয়টি নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. হারুনুর রশিদের সাথে কথা বলেছি।
অনুলিখন: মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ