চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এসএসসি পরীক্ষা

অবশেষে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ

জিপিএ পরিবর্তন হলো ১৪,১৫৮ জনের, নতুন করে গোল্ডেন জিপিএ পেয়েছে ১,৯১৫ জন

ভূঁইয়া নজরুল
maxresdefault

অবশেষে আট দিনের মাথায় নতুন করে প্রকাশিত হলো চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল। গত বুধবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পরদিন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড ঘেরাও করেছিল গণিতে জিপিএ-৫ বঞ্চিত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। তাদের দাবি ছিল গণিতে ‘গ’ ও ‘ঘ’ সেটের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তর মূল্যায়নে ভুল হয়েছে। পরবর্তীতে একই দাবিতে তারা প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনও করেছিল। অবশেষে গতকাল সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করে।
সংশোধিত ফলাফলে দেখা যায়, গত বুধবারের প্রকাশিত ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের ১৪ হাজার ১৫৮ জনের জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। এদের সবাই আগের জিপিএ থেকে কারও বেড়েছে আবার কমেছেও। একইসাথে বেড়েছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও। গত বুধবার প্রকাশিত ফলাফলে ৭ হাজার ৬৬৬ জন জিপিএ-৫ পেলেও গতকালের সংশোধিত ফলাফলে এ সংখ্যা হয়েছে ৮ হাজার ৫০২ জন। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৩৬ জন। একইভাবে আগে প্রকাশিত ফলাফলে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন জিপিএ) পেয়েছিল ১ হাজার ৯৯১ জন, গতকালের সংশোধিত ফলাফলে এ সংখ্যা হয়েছে ৩ হাজার ১০৬ জন।
এছাড়া সংশোধিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ৮৭২ জন, আর সংশোধিত ফলাফলে এ সংখ্যা হয়েছে ৭ হাজার ৫০৬ জন। মানবিকে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ছিল ৩৪টি এখন তা বেড়ে হয়েছে ৪২টি, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ছিল ৭৬০টি এখন তা বেড়ে হয়েছে ৯৫৪টি। শুধু জিপিএ-৫ এ পরিবর্তন নয়, আগে জিপিএ-৪ থেকে ৫ এর কম পেয়েছিল ২৫ হাজার ৮২২ জন, এখন তা বেড়ে হয়েছে ২৬ হাজার ৫২৫ জন। আগে ৩.৫ থেকে ৪ এর কম জিপিএ পেয়েছিল ২৪ হাজার ৬৩২ জন, এখন তা বেড়ে হয়েছে ২৫ হাজার ১৯৭ জন। আগে ৩ থেকে ৩.৫ এর কম জিপিএ পেয়েছিল ২৬ হাজার ১৪৩ জন, এখন তা কমে হয়েছে ২৫ হাজার ৬৭৪ জন, আগে ২ থেকে ৩ এর কম জিপিএ পেয়েছিল ১৭ হাজার ৬৩২ জন, এখন তা কমে হয়েছে ১৬ হাজার ৫৫ জন। আগে এক থেকে দুই এর কম জিপিএ পেয়েছিল ৩৬৬ জন, এখন তা কমে হয়েছে ৩১৫ জন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা সব বিভাগে জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। এই পরিবর্তন প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান বলেন, ‘গণিতের উত্তরপত্র রিভিউ করায় এ ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে। এখন গণিতে জিপিএ পরিবর্তনের কারণে বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলে পরিবর্তন হয়েছে।’
সংশোধিত এ ফলাফল শিক্ষার্থীরা কিভাবে জানতে পারবে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদের রোল নম্বর দিয়ে ওয়েবসাইট থেকে জেনে নিতে পারবে। এছাড়া তাদের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টে সংশোধিত ফলাফলই থাকবে। তাই কেউ এখন রেজাল্ট না দেখলেও তার ফলাফল পরিবর্তন হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে যাবে। তবে বোর্ডের পাশের হারে কোনো পরিবর্তন হয়নি।’
পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল ৮ জুন :
এদিকে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করলেও পুনঃনিরীক্ষণের জন্য যারা আবেদন করেছে তাদের উত্তরপত্র স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পুনঃনিরীক্ষণ করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান বলেন, ‘আমরা আমাদের ভুল শনাক্ত করে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করেছি। কিন’ যারা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছে তাদের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ করে ফলাফল আবারো প্রকাশিত হবে।’
বোর্ড কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে আরো জানা যায়, গণিতেও যদি কেউ পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করে থাকে। সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পরও এ বিষয়ে যদি অন্য কোনো ভুলের কারণে শিক্ষার্থী নম্বর কম পেয়ে থাকে তাহলে তা শনাক্ত করে শিক্ষার্থীকে নম্বর দেয়া হবে। এছাড়া যেসব বিষয় পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছে সেসব বিষয়গুলো নিরীক্ষণ করা হবে।
কেন প্রকাশিত হলো সংশোধিত ফলাফল?
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড প্রতিষ্ঠার গত ২০ বছর ধরে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নের সিরিয়াল একই থাকে। একই ভার্সনের উত্তরপত্র দিয়ে উভয় ভার্সনের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়। কিন’ এ বছর গণিতের ‘গ’ ও ‘ঘ’ সেটে উভয় ভার্সনের ৪০ নম্বরের প্রশ্নের সিরিয়াল নম্বর ভিন্ন ছিল। এতে ফলাফল মূল্যায়নেও ভুল হয়েছে। আর এ কারণে এবার অনেক শিক্ষার্থী গণিতে জিপিএ-৫ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আর বঞ্চনায় শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড কার্যালয় ঘেরাও করে, প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও অভিভাবক ফোরাম সংবাদ সম্মেলনও করে। তারা সঠিক ফলাফল জানতে চায় এবং বোর্ডের কাছে করুণাও চায় না। পরীক্ষায় যা পেয়েছে এর প্রকাশ চায়। ডিজিটাল ভুলের কারণে তাদের ক্যারিয়ার যেন হুমকির মুখে না পড়ে সেজন্য বোর্ড কর্মকর্তাদের প্রতি দাবি জানানো হয়। অপরদিকে বিষয়টি গণিতের বিপর্যয়ের নেপথ্যে সুপ্রভাতের পক্ষ থেকেও ধারবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে থাকে। এদিকে বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা জহিরুল আলম ফোন করে জানান, সংশোধিত ফলাফলে তার মেয়ে গোল্ডেন জিপিএ পেয়েছে। একইভাবে অনেক অভিভাবক তার সন্তান গোল্ডেন জিপিএ কিংবা জিপিএ-৫ পেয়েছে বলে সুপ্রভাতকে তাদের প্রতিক্রিয়া জানায়।
উল্লেখ্য, গত ১১ মে প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পাশের হার ছিল ৯০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৭০ জন। এর মধ্যে পাশ করেছিল ১ লাখ ২ হাজার ২৬১ জন। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সামগ্রিক পাশের হার গত বছরের ৮২ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছিল ৯০ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

  1. এবার চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের বিশেষ সিন্ডিকেটের দুএকজনকে পুরস্কৃত করা দরকার। যাদের স্বেচ্ছাচারিতা সব ধরনের ভদ্রতাকে অতিক্রম করে গেছে ইতিমদ্ধে। এরা বোর্ডকে এদের বাপের সম্পত্তি মনে করে। চরম ভুল করেও এরা বলতে চায় যদি ভুল হয়ে থাকে। এ সিন্ডিকেটের গুরুকে জিজ্ঞেস করা দরকার আপনার সস্তা মুখটি বন্ধ কেন। বম নামধারি এদের অপকর্ম থেকে সাবধান হওয়ার সময় পার হয়ে যাচ্ছে।

  2. যাদের ভোট কোনোদিন আওয়ামী লীগের বাক্সে পড়বেনা, যারা আওয়ামী লীগে প্রক্সি দিতে ব্যস্ত তারা আর কতো দিন আওয়ামী লীগের সওদাগর নেতৃত্বকে তেল দিয়ে দলটির ক্ষতি করে যাবে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরা চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডর এসব অপকর্মকারীদের নিয়ে ভাববে কি? এ বোর্ডের কয়জনের ভোট আওয়ামীলীগের বাক্সে পড়বে হিসাব করে দেখবেন? নেতারা ঘুম ছাড়ুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন