চেম্বারে মার্কিন দূতাবাসের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স

অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে যুক্তরাষ্ট্র বিনিয়োগ বাড়াবে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব ব্যবসায়িক কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী, তবে বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করতে হবে। গতকাল ২৩ আগস্ট দুপুরে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে গোলটেবিল বৈঠকে আমেরিকান দূতাবাসের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জয়েন রেইফম্যান এ কথা বলেন।
চট্টগ্রাম চেম্বার এবং আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স যৌথভাবে ‘ইউএস-বাংলাদেশ বাইল্যাটার‌্যাল ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট রিলেশন্স শীর্ষক এ বৈঠকের আয়োজন করে।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমেরিকান দূতাবাসের চ্যার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জয়েল রেইফম্যান কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনে অবকাঠামো উন্নয়নকে গুরুত্ব দিতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
জয়েল রেইফম্যান আরো বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬.৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করেছে।
রেইফম্যান বলেন চট্টগ্রাম বন্দরকে আরো আধুনিকায়ন করা এখন সময়ের দাবি। এ বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রও সহযোগিতা করবে। ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলাদেশের শ্রম শক্তিকে আরো দক্ষভাবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের আইটি ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা করতে আগ্রহী উল্লেখ করেন তিনি।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগবান্ধব দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত। বাংলাদেশ শ্রম শক্তিতে অনেক দক্ষতা অর্জন করেছে। চীনের পরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এখন এগিয়ে। চট্টগ্রাম বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চেম্বার সভাপতি মিরসরাই ও আনোয়ারা ইকনোমিক জোনে সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা কাজে লাগিয়ে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে চ্যার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে সে দেশের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিনিয়োগ চুক্তি ও দ্বৈত কর অবকাশ চুক্তির আওতায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে মধ্য আয়ের দেশে উপনীত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা কামনা করেন মাহবুবুল আলম।
চেম্বার সহসভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ বলেন-বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনা করছে। তিনি সেখানে উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভিসা আরো সহজীকরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানি বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট শওকত আলী সরকার বলেন-যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে অবদান রাখতে পারে। তিনি এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা ও তা সমাধানের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আমেরিকান দূতাবাসের ইকনোমিক এবং কমার্শিয়াল অফিসার এডওয়ার্ডো গার্সিয়া, চেম্বার পরিচালকদ্বয় অঞ্জন শেখর দাশ ও মো. জাহেদুল হক, প্রাক্তন সিনিয়র সহসভাপতি এম. এ. ছালাম, সদ্যবিদায়ী পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, জাপানের অনারারি কনস্যুল জেনারেল মো. নুরুল ইসলাম, চিটাগং ওম্যান চেম্বারের সহ-সভাপতি মুনাল মাহবুব, ব্যবসায়ী নেতা তাহের সোবহান, জুনিয়র চেম্বারের সাবেক সভাপতি জসিম আহমেদ ও কেডিএস স্টিলের জিএম ইমরান আবু হাসান।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চেম্বার পরিচালকবৃন্দ এ. কে. এম. আক্‌তার হোসেন, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), মো. জহুরুল আলম, সরওয়ার হাসান জামিল, মো. রকিবুর রহমান (টুটুল), মো. শাহরিয়ার জাহান, মুজিবুর রহমান ও মো. আবদুল মান্নান সোহেল, অ্যামচেম’র এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর মো. শাহাদাত হোসেন, দক্ষিণ আফ্রিকার অনারারি কনস্যুল মো. সোলায়মান আলম শেঠ, রাশিয়ান কনসুলেট’র ভি. জাকারভ, দূতাবাসের কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট সৈয়দা শাহরাজাদ রহমান, বিকেএমইএ’র সাবেক পরিচালক শওকত ওসমান ও এইচআরসি’র সিনিয়র ডাইরেক্টর কে. আর আহমেদ। বিজ্ঞপ্তি