অফিস ফাঁকির প্রবণতা

মোহাম্মদ আলী

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে অফিস ফাঁকির প্রবণতা বাড়ছে। এ ধরনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অনেকের বক্তব্য, বিভাগীয় প্রধানদের সঠিক তদারকির অভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস ফাঁকি দিচ্ছেন। এছাড়া মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন দপ্তরে অবস’ান না করলে বা বিদেশ সফরে গেলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস ফাঁকি দেন। সে সময়গুলোতে বিকাল তিনটার দিকে ফাঁকা হয়ে যায় নগর ভবন। তবে এ বিষয়ে আলটিমেটাম দিয়েছেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা।
জানা গেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস ফাঁকি রোধে গত ১৯ জুলাই বৃহস্পতিবার একটি অফিস আদেশ জারি করেছেন মো. সামসুদ্দোহা। এতে বলা হয়েছে, ‘ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের/শাখার কতিপয় কর্মকর্তা/কর্মচারী দাপ্তরিক সময়সূচি সকাল ৯টা হতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রবর্তন থাকা সত্ত্বেও যথা সময়ে অফিসে উপসি’ত হন না এবং নির্দিষ্ট সময় পূর্ণ হবার পূর্বেই কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে অফিস ত্যাগ করেন।’
অফিস আদেশটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অনিয়মিতভাবে অফিসে আগমন ও প্রস’ান গণকর্মচারী শৃঙ্খলা (নিয়মিত উপসি’তি) অধ্যাদেশ ১৯৮২ এর পরিপনি’ এবং অসদাচরণের পর্যায়ভুক্ত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অফিস আদেশে-যথা সময়ে অফিসে আগমন ও নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে অফিস ত্যাগ না করার জন্য সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নির্দেশনা দেন মো. সামসুদ্দোহা। অন্যথায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস’া গ্রহণ করা হবে বলে আলটিমেটাম দেন চসিকের প্রধান নির্বাহী।
এছাড়াও অধীনস’ সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বিষয়টি অবহিত করে তাদের উপসি’তি নিশ্চিত করার জন্য বিভাগীয় ও শাখা প্রধানদের অনুরোধ করেছেন মো. সামসুদ্দোহা।
এ বিষয়ে চসিকের সংস’াপন বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা- যিনি চসিকের অর্গানোগ্রাম নিয়ে কাজ করেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, ‘কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঠিক সময়ে আসছে না, যাচ্ছে না। দপ্তর প্রধানদের তদারিক অভাবে এমন হচ্ছে। তদারকি না থাকলে তারা তো ফাঁকি দিবেই। অনেকে এসে আড্ডা দিয়ে চলে যায়। যার যার ইচ্ছে মতো আসা-যাওয়া করে।’
প্রধান নির্বাহীর আলটিমেটাম সম্পর্কে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে নোটিশ দিয়ে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করেছেন প্রধান নির্বাহী। পরে তদারকি করে অফিস ফাঁকির প্রমাণ পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস’া নেওয়া হবে।’
অটো অ্যাটেনডেন্স থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কিভাবে অফিস ফাঁকি দেন জানতে চাইলে চসিকের আইটি অফিসার মো. ইকবাল হাসান বলেন, ‘আমরা যে সফটওয়্যারটা ব্যবহার করছি, তা চসিকের সাথে যায় না। আমরা নতুন সফটওয়্যার ইনস্টল করার কাজ করছি। এছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বের হবার সময় অটো অ্যাটেনডেন্স ব্যবহার না করলে তাদের যাওয়ার সময়টা বোঝা যায় না।’
এ বিষয়ে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নোটিশটি পেয়েছি। আমি ইতিমধ্যে বিলম্বে অফিসে আসার কারণে তিনজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। মেয়র বরাবর সুপারিশও দিয়েছি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস ফাঁকি রোধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে আছি।’
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস ফাঁকি রোধে অফিস আদেশ জারির কথা স্বীকার করে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা গতকাল শনিবার রাতে সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, ‘দেখা যায় যে, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী দেরিতে অফিসে আসেন, আবার নির্দিষ্ট সময়ের আগে চলে যান। তাই তাদেরকে সতর্ক করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে অফিস ফাঁকির প্রমাণ পেলে যথাযথ ব্যবস’া নেওয়া হবে।’