অপহরণের ৩৭ দিন পর হালিশহর থেকে কিশোরী উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর হালিশহর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক কিশোরীকে উদ্ধার করেছে র্যাব। ৩৭ দিন আগে ৫ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা থেকে এ কিশোরীকে অপহরণ করে হালিশহর এলাকার একটি বাসায় আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে আসছিল দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ফেনী জেলা সদরের নোয়াবাদ গ্রামের আবদুস
সাত্তারের ছেলে এয়াকুব আলী মিন্টু ওরফে মিলন (৩১), তার স্ত্রী জেসমিন (২৪), হালিশহর এলাকার ভাড়াটিয়া বগুড়া জেলার আদমদীঘি থানার চাঁটমোহর গ্রামের আফজ মন্ডলের মেয়ে আফরোজা আক্তার আশা ওরফে সুমি (৩২) এবং মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার মুনসুরপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে মো. আবদুল মোমিন (৩০)।
র্যাব-১১ এর কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন জানান, অপহরণ করে ওই কিশোরীকে ইয়াবা সেবন করিয়ে ধর্ষণও করেছে দুর্বৃত্তরা। অপহরণ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে র্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার কিছুদিন আগে এয়াকুব আলী মিন্টু ওরফে মিলন চট্টগ্রাম থেকে লাকসামে গিয়ে ওই কিশোরীর পাশের বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নেয়। তারা ওই কিশোরীকে টার্গেট করে তার পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে ৫ ফেব্রুয়ারি মিলন ও তার স্ত্রী বেড়াতে যাবে এবং বিকেলে ফিরে আসবে একথা বলে ওই কিশোরীকে তার বাবা-মার কাছ থেকে নিয়ে বের হয়। পরে কৌশলে নেশা জাতীয় পানীয় পান করিয়ে লাকসাম রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসে। এরপর ওই কিশোরীর মায়ের মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করে তারা। এ ঘটনায় কিশোরীর মা ৮ ফেব্রুয়ারি লাকসাম থানায় জিডি করেন এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি র্যাব-১১ কুমিল্লা কার্যালয়ে অভিযোগ করেন।
গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছেন, তারা দেশের বিভিন্ন স’ানে বাসা ভাড়া নিয়ে এভাবে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। অপহরণকারী এ চক্রের অপর সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন র্যাব কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন।