ষোলশহর দুই নম্বর গেইটে পুলিশকে গুলি

অপরাধের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর ষোলশহর ২ নম্বর গেইট এলাকায় পুলিশের এক এসআইকে গুলিবর্ষণকারী মোটরসাইকেল আরোহীরা কোথাও অপরাধের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ‘তারা বাঁচার জন্য অতর্কিতভাবে পুলিশকে গুলি করেছে’ জানিয়ে পাঁচলাইশ থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ সুপ্রভাতকে জানিয়েছেন, তারা সবাই উঠতি ও কিশোর বয়সী সন্ত্রাসী। তাদের টার্গেট পুলিশ ছিল না। কোনো অপরাধ করতেই তারা ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিল।
শুক্রবার বিকেলে ষোলশহর দুই নম্বর গেইট মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছিল পুলিশ। তখন তিনটি মোটরসাইকেলের আরোহীরা দুই নম্বর গেইট মোড় অতিক্রম করে মুরাদপুরের দিকে যাচ্ছিল। কর্তব্যরত পুলিশ তাদের থামার সংকেত দিলে একটি মোটরসাইকেলের আরোহী গুলি ছোঁড়ে। এতে পাঁচলাইশ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক আব্দুল মালেক গুলিবিদ্ধ হয়।
পুলিশ জানায়, তিনটি মোটরসাইকেলে ১০ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে একজনকে ঘটনাস’ল থেকে আর রাতে অভিযান চালিয়ে মুরাদপুর এলাকা থেকে আরো দুইজনকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে পাঁচলাইশ থানায় পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা করে। মামলার এজাহারে আটককৃত তিনজনসহ আরো ৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
আটক তিনজন হলেন- আব্দুল হাকিম ওরফে অভি, প্রত্যয় ও রাকিব। এদের মধ্যে প্রত্যয় ও রাকিব এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। প্রত্যয় নগরীর কাজেম আলী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী। থাকে নগরীর মুরাদপুর এলাকায়। আর রাকিব নগরীর নাসিরাবাদ সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তার বাবা সিটি করপোরেশনের একজন ঠিকাদার। তার বাসা নগরীর নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ৫ নম্বর সড়কে।
অভি হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট এলাকার একজন সিএনজি অটোরিকশা চালকের ছেলে। তার বাসা নগরীর চশমাহিলের মেয়র গলিতে।
আটক তিজনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত আল ইমরান অভিকে কারাগারে এবং রাকিব ও প্রত্যয়কে বয়স বিবেচনায় সেফহোমে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়ালী উদ্দিন আকবর।
পাঁচলাইশ থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ জানান, বাকি ৭ জনের নাম-পরিচয় আমরা পেয়েছি। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
পুলিশ তিনজনকে আটক করলেও ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করতে পারেনি। ঘটনাস’ল থেকে দুই রাউন্ড গুলির খোসা ও এক রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গুলিবর্ষণের পর একটি মোটরসাইকেল ঘটনাস’লে ফেলে পালিয়ে যায় তারা। পরে পুলিশ ধাওয়া দিলে আরেকটি মোটরসাইকেল কয়েক গজ দূরে ফেলে যায়। এসময় অভিকে পুলিশ ধরে ফেলে। পরে আরেকটি মোটর সাইকেল মুরাদপুর এলাকার একটি পার্কিং থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।