এ কেমন অনিয়ম

 অনুমোদনহীন ভবনের জন্য ক্ষতিপূরণ অনুমোদন

সম্পাদকীয়

২০১৬ সালের আগস্টে ২০৫ কোটি ৪৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় একনেকে অনুমোদন পায় বাকলিয়া এক্সেস রোড। ৬০ ফুট চওড়া সড়কটি সিরাজউদ্দৌলা সড়ক থেকে শুরম্ন হয়ে বাকলিয়া থানার পাশ দিয়ে শাহ আমানত সংযোগ সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। গত জুনের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যনত্ম আরও এক বছরের জন্য সময় বৃদ্ধি করা হয়।

যথাসময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া এবং তার জন্য এক বছরের সময় বৃদ্ধি করার পেছনে ছিল এক জটিলতা এবং তা তৈরি হয়েছিল সড়কের স’ানে একটি দশতলা ভবনকে কেন্দ্র করে।

২০১৬ সাল থেকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপড়্গ (সিডিএ) এর পড়্গ থেকে বলা হচ্ছিল, সেই আলোচিত দশতলা ভবনটি বাকলিয়া এক্সেস রোডের এলাইনমেন্টের জায়গায় গড়ে উঠেছে শুধু তাই নয়, ভবনটি নির্মাণে সিডিএ’র অনুমোদন থাকায় তা ভাঙা যাবে না।

শেষ পর্যনত্ম সড়ক নির্মাণের স্বার্থে ভবন  মালিককে ড়্গতিপূরণ দিয়ে ভবন ভাঙার সিদ্ধানত্ম হয়। এবং ড়্গতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি টাকা ড়্গতিপূরণ প্রদানের অনুমোদন দেয় মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয় ড়্গতিপূরণের বাড়তি ১০ কোটি টাকা। কয়েকদিনের মধ্যেই সে টাকা বণ্টন করার কথাও ছিল।

যে ভবন নিয়ে এত আলোচনা, যে ভবনটির জন্য একটি প্রয়োজনীয় সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ থাকল এবং যার ড়্গতিপূরণের জন্য সরকারি তহবিল থেকে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলো শেষে জানা গেল ভবনটির সঠিক অনুমোদন নেই। সুপ্রভাত বাংলাদেশের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সিডিএ’র গোপন সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি পস্নানিং বিভাগ ও অন্য কয়েকটি বিভাগ থেকে জমা হওয়া লিখিত বক্তব্যে এই ভবনের কোনো অনুমোদন না থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। সেসব লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ভবনটি যে দাগ নম্বরে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সেখানে ভবনটি নেই। আর অবৈধ ভবনের জন্য কোনো ড়্গতিপূরণ মালিক পেতে পারে না। মোট চারটি দাগের মধ্যে ভবনের বেশি অংশ যে দাগে পড়েছে অনুমোদন পাওয়া ম্যাপে সে দাগ ছিল না।

এ বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সিডিএ’র প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, এই বিষয়টি আমি অনেক আগেই বলেছি। ভবনটি যে স’ানে রয়েছে আমি সে স’ানে তাকে অনুমোদন দিইনি। এই বক্তব্যকে সঠিক আখ্যা দিয়ে অথরাইজড অফিসার ও ইমারত নির্মাণ কমিটির সদস্য সচিব বলেন, এই বিষয় উলেস্নখ করে চিঠি ড্রাফট করে দিলেও প্রকল্প পরিচালক ও তৎকালীন চেয়ারম্যান নোটিশ ইস্যু করেননি।

তার অর্থ এই অনিয়মের কথা নগর পরিকল্পনাবিদ, অথরাইজড অফিসার ও সিডিএ’র তৎকালীন চেয়ারম্যান স্বয়ং জানতেন। দশতলা এই ভবনটি রাতারাতি তৈরি হয়নি। নির্মাণের সময়ে সিডিএ’র পরিদর্শকরা কী দেখেছিলেন? এবং নির্মাণের পর অবৈধ ভবনের জন্য যখন ড়্গতিপূরণের প্রশ্ন আসল তখনও তারা নিশ্চুপ ছিলেন কার স্বার্থে। কোন উদ্দেশ্যে তারা সরকারি তহবিলের ১০ কোটি টাকা গচ্চা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকলেন। তৎকালীন চেয়ারম্যান জেনে শুনেও এত বড় অনিয়মের বিরম্নদ্ধে ব্যবস’া নিলেন না কেন?

এভাবে সরকার তথা জনগণের অর্থ আর কত বছর নয়-ছয় হবে? এত বড় অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত, একটি অনুমোদনহীন ভবনের জন্য ড়্গতিপূরণের টাকা অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার পেছনে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টানত্মমূলক শাসিত্মর ব্যবস’া করা হোক। আর কত ধরনের অনিয়মের সঙ্গে সিডিএ’র অসাধু ব্যক্তিরা জড়িত তা খতিয়ে দেখে তাদের আইনের ব্যবস’ায় আনা হোক।