অনুমতি ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের গ্রেফতার নয়

সুপ্রভাত ডেস্ক

কোনও সরকারি কর্মচারীর বিরম্নদ্ধে অভিযোগ এনে ফৌজদারি মামলা হলেও আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণের আগে তাকে গ্রেফতার করা যাবে না। আর এ অবস’ায় যদি গ্রেফতার করতে হয় তাহলে সরকার বা নিয়াগকারী কর্তৃপড়্গের অনুমতি লাগবে। এমন বিধান রেখে গত রোববার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয় ‘সরকারি চাকরি বিল ২০১৮’।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। উত্থাপনের পর যাচাই-বাছাই করে তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বিলটি শ্রম ও কর্মসংস’ান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। এর আগে ২০ আগস্ট বিলটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। চলতি অধিবেশনেই এই বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রসত্মাবিত এই আইনে বলা হয়, কোনও সরকারি কর্মচারীর বিরম্নদ্ধে কোনও আদালতে ফৌজদারি বা অন্য কোনও আইনি কার্যধারা বিচারাধীন থাকলে বিচারাধীন এক বা একাধিক অভিযোগের বিষয় তার বিরম্নদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা রম্নজু বা নিষ্পত্তির ব্যাপারে কোনও প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। বিলের ৪১ ধারায় এই কথা বলা হয়। বিলের ৭ ধারায় বলা আয়, এই আইনের আওতাভুক্ত কোনও কর্ম বা কর্মবিভাগে সরাসরি
জনবল নিয়াগের ভিত্তি হবে মেধা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা। সংবিধানের ২৯(৩) অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য পদ সংরড়্গণের বিষয় সরকার প্রয়াজনীয় ব্যবস’া গ্রহণ করতে পারবে।
সংবিধানের ২৯(৩) অনুচ্ছেদে বলা আয় ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরম্নষভেদ বা জন্মস’ানের কারণে কোনও নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়াগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ড়্গেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না। নাগরিকদের যে কোনো অনগ্রসর অংশ যাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে বিশেষ বিধান-প্রণয়ন করা যাবে।’ বিলের ২৫ ধারায় বলা আয়, কোনও ব্যক্তি সেবা পাওয়ার জন্য আবেদন করলে সরকার নির্ধারিত সময়র মধ্যে, কিংবা সময়সীমা উলেস্নখ না থাকলে যুক্তিসঙ্গত সময়র মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনও কর্মচারী এই ধারার বিধান লঙ্ঘন করলে তা ওই কর্মচারীর অদড়্গতা ও অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। ২৬ ধারায় বলা আয়, কোনও কর্মচারী নির্ধারিত বা যুক্তিসঙ্গত সময় সেবা প্রদানে ব্যর্থ হলে কর্তৃপড়্গ ওই কর্মচারীর কাছ থেকে ড়্গতিপূরণ আদায় করে সেবাপ্রার্থী ব্যক্তিকে প্রদান করতে পারবে।’ ৩২ ধারায় বলা আয়, নিয়াগকারী কর্তৃপড়্গ দোষীসাব্যসত্ম কোনও কর্মচারীর ওপর বিধি মোতাবেক একাধিক লঘু ও গুরম্নদ- আরোপ করতে পারবে। লঘুদ-ের মধ্যে আয়- তিরস্কার, নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি ও বেতন-ভাতা স’গিত করা, বেতন স্কেল অবনমিত করা এবং সরকারি অর্থ ও সম্পত্তির ড়্গতি হলে ড়্গতিপূরণ আদায় করা। গুরম্নদ-ের মধ্যে আয়-বেতন নিম্ন স্কেলে অবনমিত করা, বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করা, চাকরি হতে অপসারণ করা এবং চাকরি হতে বরখাসত্ম করা। ৩৮ ধারায় বলা আয়, প্রজাতন্ত্রের কর্ম হতে বরখাসত্ম হয়ন এমন কোনও ব্যক্তি ভবিষ্যতে প্রজাতন্ত্রের কোনও কর্মে বা রাষ্ট্রের অন্য কোনও কর্তৃপড়্গে নিয়াগ লাভের যোগ্য হবেন না।
৪২ ধারায় বলা আয়, কোনও সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক মৃত্যুদ- বা এক মেয়াদের বেশি কারাদ-ে দ-িত হলে ওই ব্যক্তি দ- আরোপের রায় প্রদানের দিন থেকে চাকরি হতে তাৎড়্গণিক বরখাসত্ম হবেন। তবে কর্মচারী এক বছর বা তার কম মেয়াদের জন্য দ-িত হলে কর্তৃপড়্গ ওই ব্যক্তিকে তিরস্কার, পদোন্নতি ও বেতন স’গিত করা, পদ ও বেতন স্কেলের অবনমন করা এবং সরকারি সম্পদের ড়্গতি হয় থাকলে ড়্গতিপূরণ আদায় করতে পারবে। তবে এই আইনে যাই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রপতির কাছে সনেত্মাষজনক মনে হলে তিনি সাজা পাওয়া ব্যক্তিকে অব্যাহতি প্রদান করতে পারবেন এবং চাকরিতে পুনর্বহাল করতে পারবেন। ৪২ ধারার এই বিধান সম্পর্কে কোনও আদালতে প্রশ্ন বা আপত্তি উত্থাপন করা যাবে না বলেও বিলে উলেস্নখ করা হয়।