‘অজ্ঞাত রোগ’ আতঙ্ক আদিবাসী পল্লীতে

রাজু কুমার দে, মিরসরাই

মিরসরাইয়ে ‘অজ্ঞাত রোগ’ আতঙ্ক ভর করেছে আদিবাসী পল্লীতে। গত দুই দিনে ২ শিশুর মৃত্যু ও কমপক্ষে ৩৫ জন আক্রান্ত হওয়ায় সেই আতঙ্ক আরো বেড়ে চলছে। সর্বশেষ শুক্রবার ১৩ শিশুকে উপজেলা স্বাস’্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলা সদর ইউনিয়নের মধ্যম তালবাড়িয়া আদিবাসী পাড়ার প্রায় প্রতিটি ঘরে এ রোগ দেখা দিয়েছে। ওই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত রোববার জীবন ত্রিপুরা (৮) ও বুধবার দুলিরাং ত্রিপুরা (৪) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া আক্রান্ত হয় কমপক্ষে ৩৫ শিশু। এতে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে আদিবাসী পাড়ার লোকজন। তবে আতঙ্কিত হলেও অভিভাবকরা রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে বলে জানান চিকিৎসকরা। আক্রান্ত শিশুদের অনেক চেষ্টা করেও চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস’্য কমপ্লেক্সে নেয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন স’ানীয় স্বাস’্য সহকারী হোসনে আরা মীর। স’ানীয় আদিবাসীরা ওই রোগকে জলবসন্ত বললেও স’ানীয় সহকারী স্বাস’্য পরিদর্শক নাছিমা আক্তার এটিকে হাম রোগ বলে ধারণা করেন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা সহকারী স্বাস’্য পরিদর্শক নাজমা খানম, নাছিমা আক্তার, স্বাস’্য সহকারী কাজী সাইফুল ইসলাম, জিয়াউল হক খান, মাতৃকা হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক জামসেদ আলম আদিবাসী পাড়ায় গিয়ে হামে আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে শুক্রবার ১৩ শিশুকে উপজেলা স্বাস’্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।
স’ানীয় সুস্মিতা ত্রিপুরা জানান, ১৫ দিন আগে তার মেয়ে দুলিরাং ত্রিপুরার প্রচণ্ড জ্বর ও কাশি শুরু হয়। দুয়েক দিন পর থেকে গায়ে গুটিগুটি হয়ে ঘামাচির মতো দেখা দেয় এবং জ্বর বাড়ার সাথে সাথে বমি ও পাতলা পায়খানা হতে থাকে। এসময় দুলিরাংকে একজন পল্লী চিকিৎসক থেকে চিকিৎসা করানো হয়। বুধবার সকালে তার অবস’া খারাপ হতে থাকলে তাকে উপজেলা স্বাস’্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে সে মারা যায়। একইভাবে জীবন ত্রিপুরাও মারা যায় বলে জানান তার ভাই লক্ষণ ত্রিপুরা।
পাড়া সর্দার সুরেশ ত্রিপুরা জানান, বর্তমানে পাড়ায় প্রকাশ ত্রিপুরা (৮), সত্যবান ত্রিপুরা (১), সংগীতা ত্রিপুরা (৩), মানদরী ত্রিপুরা (৩), আঁখি ত্রিপুরা (৮), লক্ষণ ত্রিপুরা (৫), শাবানা ত্রিপুরা (৫), পলি ত্রিপুরা (৪),সুজন ত্রিপুরা (১০), মোছারাই ত্রিপুরা (১২), রানী ত্রিপুরা (১২), মনিবালা ত্রিপুরা (৬), মিলন মালা ত্রিপুরাসহ (৫) প্রায় ৩০-৩৫জন শিশু অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, শিশুদের সারা গায়ে ছোট ছোট ঘামাচির মতো হয়ে আছে। অনেকের ঠোঁট ও কানের কাছে ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে গেছে। প্রত্যেক শিশুর গায়ে জ্বর ও কাশি রয়েছে। দুই তিনদিন পর জ্বর বাড়তে থাকে এবং শিশুদের শারীরিক অবস’ার অবনতি হতে থাকে। রোগে আক্রান্ত আঁখি’র মা নয়নবালা জানান, তার মেয়েকে স’ানীয় ডাক্তার থেকে হোমিও ওষুধ খাওয়াচেছন। সে এখন অনেকটা সুস’ হয়ে উঠেছে। শুক্রবার ১৩ শিশুকে উপজেলা স্বাস’্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
উপজেলা স্বাস’্য সহকারী সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুদের টিকা দিতে আদিবাসী অভিভাবকদের প্রচণ্ড অনীহা রয়েছে। তারা অনেকটা জোর করে আদিবাসী শিশুদের টিকা প্রদান করেন। তবে বর্তমানে যারা জ্বরসহ রোগে আক্রান্ত তাদের অনেকেই কোন ধরনের টিকা অতীতে নেয়নি।
উপজেলা স্বাস’্য কর্মকর্তা মো. নুরুল আফছার জানান, আদিবাসী শিশুরা কোন ধরণের রোগে আক্রান্ত তা পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব নয়। তারা শিশুদের রক্তসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এরপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।