অংশ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধানত্ম বিএনপির!

সুপ্রভাত ডেস্ক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নীতিগত সিদ্ধানত্ম নিয়েছে বিএনপি। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তফসিল ঘোষণার সমালোচনা করলেও নির্বাচনি ট্রেন কোনোভাবেই মিস করতে চায় না দলটি। এদিন রাতে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত স’ায়ী কমিটির সক্রিয় সদস্যদের নিয়মিত বৈঠকে এ সিদ্ধানত্ম নেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকের সিদ্ধানত্ম অনুযায়ী আজ শনিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে স’ায়ী কমিটি নির্বাচনি পরিকল্পনা তৈরি করবে। বিএনপির স’ায়ী কমিটির প্রভাবশালী কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। খবর বাংলা ট্রিবিউন।
স’ায়ী কমিটির একাধিক সদস্য নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিজেরা উদ্ধৃত হতে চাননি। প্রত্যেকের ভাষ্য, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বয়কট করলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লড়াইয়ে থাকবে বিএনপি। এড়্গেত্রে আজ শনিবার গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দিনব্যাপী আলোচনা করে দলের নির্বাচনি পরিকল্পনা, ইশতেহার ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি চূড়ানত্ম করবেন নীতিনির্ধারকরা।
এর আগে, গতকাল শুক্রবার রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ আছে, সেই সমাবেশ থেকে তফসিল ঘোষণার সমালোচনা করা হবে। একইসঙ্গে তফসিল পেছানোর দাবিও জানানো হবে। তবে নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে দেওয়া হবে না, এমন ইঙ্গিতও দিতে পারেন নেতারা।
স’ায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৩ ডিসেম্বরের নির্বাচনের জন্যই প্রস’তি নেবে বিএনপি। একইসঙ্গে এ সিদ্ধানত্ম চূড়ানত্মভাবে ঘোষণার আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে এর সম্ভাব্য কৌশল, পরবর্তী নীতি নির্ধারণ করবে বিএনপি। এড়্গেত্রে ফ্রন্টের নেতাদের অভিমত অনুযায়ী নির্বাচনি কৌশল ঠিক করবে দলটি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘নির্বাচন সবাই চায়। কিন’ সব দলকে নিয়ে নির্বাচন করা সরকার ও ইসির দায়িত্ব। কিন’ তারা প্রতিপড়্গ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সঠিক আচরণ করছে না। তফসিল ঘোষণা দুই-তিনদিন পরও করা যেতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোচনা করবেন না। এই আলোচনা তিনি ৫ বছর করেছেন। যদিও শেষ পর্যনত্ম তিনি রাজি হয়েছেন। ঐক্যফ্রন্ট যে প্রসত্মাব দিয়েছে, তা সংবিধানের বাইরে নয়। যেমন, নির্বাচনকালীন সরকার ছিল, আওয়ামী লীগই পরিবর্তন করেছে।’
ইতোমধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফার কোনও দাবিই সরকারের পড়্গ থেকে মানা হয়নি। এড়্গেত্রে নির্বাচন পেছানোর দাবি কতটা মানবে, এমন প্রশ্নে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘নির্বাচন প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে কথা হবে। কথা বলার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমাদের কী অবস’ান হবে, তা রাজশাহীর সমাবেশের পর ঠিক করবো।’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ২০ দলীয় জোটের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ‘একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে। এখানে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে, জনগণের আশা-আকাঙড়্গার প্রতিফলন ঘটেনি।’
তফসিলের বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে, অভিমত জানতে চাইলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোসত্মফা মোহসীন মন্টু বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল তফসিল পেছানোর। এটা নির্বাচন কমিশন মানেনি। জনগণের দাবি না মানলে জনগণই জবাব দেবে।’
এদিকে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম এক নেতা ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন করবে। ফ্রন্টের অন্যতম দল বিএনপির প্রতীক ধানের শীষেই নির্বাচনের সম্ভাবনা বেশি।
সূত্র জানায়, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সেড়্গেত্রে নির্বাচনের সময়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম কার সইয়ে নির্বাচন কমিশনে যাবে, এরও একটি পন’া বের করা হচ্ছে। আজ শনিবারের বৈঠকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানান স’ায়ী কমিটির একাধিক সদস্য।
তবে বিশ্বসত্ম একটি সূত্রের দাবি, এড়্গেত্রে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর বা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সম্ভাবনা বেশি। তবে, চূড়ানত্ম সিদ্ধানত্ম জানা যাবে আজ শনিবার। এদিন ২০ দলীয় জোটের বৈঠকও ডাকা হয়েছে। স’ায়ী কমিটির নেওয়া সিদ্ধানত্ম জোটের বৈঠকে জানিয়ে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সময় মিলিয়ে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করে দলীয় অবস’ান তুলে ধরে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। আজ শনিবার বা কাল রবিবার রাতে বা সন্ধ্যায় বিএনপির সংবাদ সম্মেলন করার সম্ভাবনা আছে। সে সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি খোলাসা করবে বিএনপি।